মে মাসে কানাডার প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন দেশাই। তার অধীনে দলটি বিশ্বকাপ লিগ-২-এর দুটি ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলেছে—একটি নিজেদের মাটিতে, অন্যটি স্কটল্যান্ডে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন তিনি। নতুন কোচের জন্য ২৮ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করবে ক্রিকেট কানাডা।
নিজের বিদায়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দেশাই বলেন, ‘সময়টা ছোট হলেও অভিজ্ঞতাটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গত তিন মাস অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় ক্রিকেট কানাডার প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রতিটি পরিবেশ থেকেই কিছু না কিছু শেখা যায়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও বিশ্বাসী করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য সময়, আস্থা, প্রস্তুতি, ভালো সম্পর্ক ও সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধ প্রয়োজন।’
দেশাইয়ের বিদায়ের সময়টা কানাডার ক্রিকেটের জন্যও বেশ কঠিন। ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলটি চার ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট। একই সময়ে ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে আইসিসির সদস্যপদের শর্ত ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগও ওঠে।
এর জেরে মে মাসে ক্রিকেট কানাডার অর্থায়ন স্থগিত করে আইসিসি। পরে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির বৈঠকের পর কানাডার সহযোগী সদস্যপদও স্থগিত করা হয়। গত মাসে এডিনবরায় আইসিসির বার্ষিক সভার পর ক্রিকেট কানাডাকে সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার জন্য কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের ওপর সেই স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে।
বিশ্বকাপ লিগ-২-এর পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে আছে কানাডা। হাতে রয়েছে আর চারটি ম্যাচ। আগামী ৯ অক্টোবর ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পরবর্তী পর্ব শুরু হবে। এরপর নেপালের বিপক্ষেও খেলবে তারা। লিগ-২-এর শীর্ষ চার দল আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
কানাডার সঙ্গে দেশাইয়ের এটি ছিল দ্বিতীয় মেয়াদের কাজ। এর আগে ২০১৯ সালেও দলটির সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। এবার দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন প্রধান কোচ খুঁজতে শুরু করেছে ক্রিকেট কানাডা।