রাত ১১টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সিডনির 'কিংসফোর্ড স্মিথ বিমানবন্দরে' বিমান ওঠা নামা একেবারেই নিষিদ্ধ। শহরের হাজার হাজার বাসিন্দার নিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে, স্থানীয়রা তাই অভিযোগ জানিয়ে সরকারের কাছে বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে। ১৯৯৫ সালে 'সিডনি এয়ারপোর্ট কারফিউ অ্যাক্ট' অনুযায়ী রাত ১১টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত জরুরি ও বিশেষ বিমান ছাড়া সিডনি বিমানবন্দরে উড্ডয়ন/আগমন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। রাতের শেষ ফ্লাইট বলে চেক ইনের তাড়া, বিশাল ব্যাগ নিয়েই ডারউইনের উদ্দেশ্যে বিমান ধরছেন অজিরা।
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সাদা পোশাকে তফাৎটা যোজন যোজন হলেও এই সিরিজ নিয়ে নর্দান টেরেটরি ক্রিকেটের আয়োজনের কমতি নেই। ডারউইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতেই বিশাল ব্যানার চোখে পড়লো। রাস্তায় বড় বড় বিলবোর্ডে এই সিরিজ নিয়েই প্রচারণা। দর্শক মাঠে টানতে সব রকম আয়োজন। ১০ তারিখ মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, স্টিভেন স্মিথরা 'ফ্যান ডে'তে উপস্থিত থেকে দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছেন। দুপুরে অ্যালেক্স ক্যারি আর স্থানীয় ক্রিকেটার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে নিয়ে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। সময়টা ভালোই উপভোগ করেছেন ছবি দেখেই বোঝা যায়।
মুঠোফোনে তাসকিনকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানতে চাইলাম 'কয়টা মাছ গেঁথেছে তার বরশিতে'। ফিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত নর্দান টেরিটরির রাজধানী ডারউইন। তিন মৌসুমে ভাগ হয়ে এখানে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা চলে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা হুইল বরশির বিশাল বিশাল ব্যাগ নিয়ে শুধু মাছ ধরার নেশা কাটাতেই এখানে আসেন। বিশেষ করে 'বারামুন্ডি' মাছ, বাংলা যাকে 'ভেটকি বা কোরাল' মাছ বলে। অ্যাংলারদের বরশিতে গেথেও দারুণ ফাইট দিতে পারে বলে এ মাছ ধরাই নেশা সবার। যদিও মার্চ-জুন কোরাল মাছ ধরার উপযুক্ত সময় তবুও অ্যাংলারদের মাছ ধরার নেশা কাটানো বড় দায়। সিডনি এয়ারপোর্টে বড় বড় ব্যাগ নিয়ে শেষ ফ্লাইট ধরার তাঁড়া তাদেরও।
পেসার তাসকিনের বরশিতে মাছ গাঁথেনি তবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। চাইলে শিক্ষাও নিতে পারেন। গ্রামের নদী-নালা কিংবা বিলে ছাতা মাথায় বরশির পসরা সাজিয়ে সকাল গড়িয়ে বিকেল অপেক্ষার স্মৃতি নিশ্চয়ই চোখে ভাসার কথা। কথায় আছে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে নাকি ধৈর্য্যের প্রয়োজন। বরশির ফ্লোটে বার বার মাছের টোপ গেলা না গেলার খেলায় সঠিক সময়ে আলতো টানের ওপরই তো নির্ভর করে আপনার ভাগ্য। ক্রিকেটের বেলাও তাই নয় কি? অন্তত ৫ দিনের টেস্টে বড় ব্যাপার তো ঐ বরশি ফেলে মাছের অপেক্ষায় থাকার মতো ধৈর্য্য।
অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে এসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অ্যাংলারই হতে হবে। ডারউইনে স্টার্ক-হ্যাজেলউড-কামিন্সদের বিপক্ষে ধৈর্য্যের পরিক্ষা দিতে হবে। বোলারদের? টোপ ফেলে অপেক্ষায় থাকতে হবে সঠিক সময়ে আলতো টানের। যাতে হেড-স্মিথদের মতো 'বারামুন্ডি' ফাইট দিয়েও হার মানে, ঠিকই তাসকিনদের বরশিতে বিঁধে যেতে পারে। ডারউইনে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের আপাতত অ্যাংলার হওয়া ছাড়া উপায় আছে কি?