কলকাতা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার সর্বশেষ চিঠি পাওয়ার পর দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ করেন সৌরভ। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারা এসব চিঠি পাঠিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা অভিযোগটিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আমরা চিঠিগুলো, সেগুলোর উৎস এবং কুরিয়ারের গতিপথ খতিয়ে দেখছি।'
অভিযোগে সৌরভ জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস ধরে তার নামে বিভিন্ন চিঠি আসছিল। শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে সোমবার তার দপ্তরে দুটি চিঠি আসে। সেগুলোতে তাকে ও তার স্ত্রীকে হত্যার পাশাপাশি ঘনিষ্ঠদের ক্ষতি করার সুস্পষ্ট হুমকি দেয়া হয়। এরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, চিঠিগুলো ডাকযোগে নয়, একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। পুলিশের কাছে এমন অভিযোগও এসেছে যে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়ার কোনো এক ব্যক্তি এসব চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, চিঠি পাঠানোর সঙ্গে ব্যবহৃত মুঠোফোনের নম্বরের গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং একটি মুঠোফোন নম্বর শনাক্ত করেছি। আমরা সেটির অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।'
সৌরভ বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি। এর আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, সব চিঠি একই ব্যক্তি পাঠিয়েছেন কি না এবং এসব হুমকির পেছনে প্রকৃত কারণ কী। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।