সেই সিরিজের ডারউইন টেস্টে খেলেছিলেন কিংবদন্তি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ফক্স স্পোর্টসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের সেই সফরের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তিনি। সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ব্যাটিং করেছিলাম, তবে কেইর্নসের ম্যাচে করিনি। ছেলেরা বেশ ভালো ব্যাটিং করেছিল।’
স্কোরকার্ডই দুই দলের শক্তির পার্থক্যের বড় প্রমাণ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংস ও ১৩২ রানে হারিয়েছিল মাত্র তিন দিনের মধ্যে। কেইর্নসে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৯৮ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, ম্যাচটি শেষ হয়েছিল চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের আগেই। সেই একপেশে সিরিজের পর দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ।
২০০৩ সালের সেই সফরের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর সেই সুবাদেই ডারউইনে টেস্ট আয়োজনের পুরোনো স্মৃতিও ফিরে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার শীতকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল যখন ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন ডারউইনে থাকে শুষ্ক মৌসুম। আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ হওয়ায় ক্রিকেটারদের জন্য জায়গাটি হয়ে ওঠে অনুশীলন ও ক্রিকেট খেলার আদর্শ পরিবেশ। অনেক ক্লাব ক্রিকেটারও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে এই সময়ে ডারউইনে যান। ২০০৩ সালে ডারউইনে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা গিলক্রিস্টের কাছেও ছিল ভিন্ন রকম।
সেই সময়ের স্মৃতি নিয়ে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন টেস্ট ম্যাচগুলোর মতো এখানে এতটা চাপ ও মনোযোগ থাকে না। সেখানে কিছুটা স্বস্তির আবহ থাকে। এটা সতেজ করে। আমার মনে আছে, জায়গাটা ছিল নতুন, অভিজ্ঞতাটাও ছিল আলাদা। একটি টেস্ট ম্যাচের জন্য এটি পরিবেশের দিক থেকে বড় পরিবর্তন। পরিচিত ভেন্যুর বাইরে খেলার অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, এই নতুনত্ব একটি দলের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।’
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তির পার্থক্যও ছিল আকাশ পাতাল। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ ড্র করেছে এবং ২০২২ সালে তৎকালীন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতেছে। ফলে এবার অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেবে না।