গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। তবে ২০২৪ সালে জুলাই-আগষ্টে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর প্রেক্ষাপট বদলে যায়। ক্রমশই দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক শীতল হতে থাকে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ সফরটি স্থগিত করে ভারত। ১৩ মাস পিছিয়ে চলতি বছরের আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা শুভমান গিলদের।
যদিও এখনো পর্যন্ত ভারতের বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত হয়নি। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) সবুজ সংকেত না দেওয়ায় এখনো সূচি প্রকাশ করতে পারছে না বিসিবি। যদিও প্রাথমিকভাবে মৌখিক আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। কদিন আগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইসিসির সভা। সেই সময় ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে আলাপ করেছেন দুই দেশের কর্তারা।
শেষ পর্যন্ত ভারত যদি বাংলাদেশ সফরে আসে তাহলে মাত্র দুইটি ভেন্যুতে খেলবে তারা। প্রাথমিকভাবে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের ভেন্যুতে বিবেচনা করছে বিসিবি। ভারতীয় বোর্ডকেও সেই প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে তারা। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আইসিসি সভার ফাঁকে প্রয়োজনে এক ফরম্যাটের অর্থাৎ তিন ম্যাচের একটি সিরিজ নিয়েও আলাপ হয়েছে বোর্ড কর্তাদের।
এ প্রসঙ্গে বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র বলেন, ‘এক ভেন্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক ভেন্যুতেই সব ম্যাচ আয়োজনের ভাবনায় কোনো আপত্তি দেখছে না। তবে তাদের প্রথম পছন্দ তিনটি টি-টোয়েন্টি এক ভেন্যুতে এবং তিনটি ওয়ানডে অন্য আরেকটি ভেন্যুতে আয়োজন করা। এক্ষেত্রে ভেন্যু হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামই এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া যেকোনো একটি ফরম্যাটে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি লন্ডনে আইসিসির সভার ফাঁকে দুই বোর্ডের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়।’
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে ভারতের। বাংলাদেশ সফর করলে বাতিল করা হতে পারে ভারতের আফগানিস্তান সফর। কারণ আগষ্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবে ভারত। যেখানে সাদা বলের সিরিজ খেলে দেশে ফিরতে ফিরতেই এশিয়ান গেমসের সময় চলে আসবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই সিরিজটি নিয়েও আলাপ হয়েছে।
যদিও ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে কিনা সেটা এখনো নির্ভর করছে দেশটির সরকারের অনুমোদনের উপর। এ প্রসঙ্গে বিসিসিআইয়ের সূত্রটি বলেন, ‘সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের পূর্বনির্ধারিত সিরিজটি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়েও কথা হয়েছে। তবে পুরো সফরটিই সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।’