২০০৫ সালে কার্ডিফে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে হেরেছিল রিকি পন্টিং, গ্লেন ম্যাকগ্রা, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের অস্ট্রেলিয়া। সেই হারের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। চলতি জুনে বাংলাদেশ সফরে আসার আগে সবশেষ ১৫ ওয়ানডের সবকটিতে জয় ছিল অজিদের। তবে মিরপুরে সেই অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ ভেঙেছে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পেয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ২১ বছরে এটাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৫ উইকেট। টানা দুই ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো সিরিজও জেতে টাইগাররা। বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারায় টি-টোয়েন্টিতে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন কনোলি। সেটা করতে পারায় নিজের ভালো লাগার কথা জানালেন রেনশ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছুটা তো বটেই (প্রতিশোধ)। ওয়ানডে সিরিজে বেশ কয়েকটা দারুণ ম্যাচ হয়েছে। তবে মনে হচ্ছিল প্রতিটা ম্যাচেই আমরা যেন জয় থেকে সামান্য কিছুটা দূরে ছিলাম। কয়েকটা ম্যাচে আমরা হয়ত ২০-৩০ রান কম করেছি। টি-টোয়েন্টির কথা যদি বলি প্রথম ম্যাচে রান তাড়া করে জেতা এবং আজকে ভালো একটা লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়া। ভাগ্যের সহায়তা পাওয়াটা সবসময় ভালো লাগে। বিশেষ করে এই সফরে জয় পাওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। শেষ দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জেতা এবং কয়েকটা জয় পাওয়ায় ভালো লাগছে।’
আগের কয়েকটা ম্যাচে ব্যাট হাতে সেভাবে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি রেনশ। তবে বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। নিয়মিত বোলার না হয়েও বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপাকে ফেলেছেন, উইকেটও তুলে নিয়েছেন। এমন একজন পার্ট টাইম বোলারকে উইকেট দেওয়ায় প্রথম টি-টোয়েন্টির পর হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তালহা জুবায়ের। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের মন্তব্য চোখে পড়েছে রেনশ। সেটার জবাব দিতেও ভুললেন না তিনি।
রেনশ বলেন, ‘আমার বোলিং এমনিতে খুব একটা ভালো নয়। বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এ ব্যাপারে খানিকটা তথ্য পেয়েছিলাম! আমি নিজের বোলিংকে এমন কাজ হিসেবে দেখি, যা করতে আমি ভালোবাসি। বল হাতে চেষ্টা করি ব্যাটিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে। প্রত্যেকটা বলে ব্যাটসম্যান কী করার চেষ্টা করছে, তা বোঝার চেষ্টা করি।’
‘জানি যে, হয়তো প্রত্যেকটা বল আমার ইচ্ছামতো জায়গায় রাখতে পারব না, তাই ফিল্ডিং সাজিয়ে যেখানে পারি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি এবং দলের জন্য যা কিছু করা সম্ভব, তা করি। সৌভাগ্যবশত এই সফরে আমি কিছু উইকেট পেয়েছি। বেশ ভালো লাগছে।’