ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শুরুটা ভালো হলেও ছন্দে ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের পরই খেই হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ক্রমশই বিপদে পড়ে তারা। একটা সময় একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও জাগে। শেষের দিকে শেখ মেহেদী ক্যামিও ইনিংস খেললেও বলার মতো সংগ্রহ পেল না বাংলাদেশ। স্বল্প পুঁজিতে টাইগার বোলারদের লড়াইয়ের সুযোগও খুব বেশি ছিল না। যদিও ছেড়ে কথা বলেননি মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামরা। বরং ৬ উইকেট নিয়ে দারুণ লড়াই করেছে বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে তাদের। বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

রান তাড়ায় চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে রিভার্স স্কুপ করতে চেয়েছিলেন জশ ইংলিস। তবে শরিফুলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে ব্যাটে-বলে করতে না পারায় বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ৫ বলে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন ইংলিস।

আরেক ওপেনার মিচেল মার্শও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ককে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন শরিফুলের হাতে। চোট কাটিয়ে ফেরা মার্শ ১৩ রানে আউট হয়েছেন। ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড। তাদের দুজনের জুটি ভাঙেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

ঝড়ো ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান বাড়াতে থাকা কনোলি আউট হয়েছেন সাকলাইনের বলে ছক্কার চেষ্টায়। ২৭ বেল ৪৭ রান করা কনোলিকে ফিরিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে প্রথম উইকেটের দেখা পান পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে আউট হয়েছেন ডেভিডও। শেখ মেহেদীর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।১৬ বলে আউট হয়েছেন ২০ রান করে।

একশর আগে চার উইকেট হারানোর পরও খুব বেশি বিপদ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। সফরকারীরা যখন জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে তখন আউট হয়ে ফেরেন নিখিল চৌধুরী। রিশাদ হোসেনের বলে স্কুপ করার চেষ্টায় উইকেটকিপার পারভেজ হোসেন ইমনকে ক্যাচ দিয়েছেন ১৩ বলে ১৮ রান করে। পরবর্তীতে ১৮ রান করা ম্যাট রেনশও আউট হয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে সাকলাইন দুইটি উইকেট পেয়েছেন।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফেরেন তানজিদ হাসান। বাংলাদেশের ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই শুরুর জুটি ভেঙে দেন স্পেন্সার জনসন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি খেলতে গিয়ে টাইমিং করতে ব্যর্থ হন এই বাঁহাতি ওপেনার। ক্যাচ তুলে দেন জেভিয়ার বার্টলেটের হাতে। ৯ বলে ১০ রান করে থামেন তিনি। ১৭ বলে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে তার বিদায়ের মাধ্যমে।

এরপর ক্রিজে এসে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন সাইফ হাসান। তবে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের আরেকটি জুটি। অফ স্পিনার ম্যাট রেনশের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন তিনি। ১৪ বলে ২০ রান করেন সাইফ।

এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে আগ্রাসী শুরু করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ক্রিজে এসেই ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার ইনিংস। অ্যাডাম জাম্পার গুগলি বুঝতে না পেরে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। পাঁচ বলে আট রান করেন এই ব্যাটার।

হৃদয়ের বিদায়ের পর সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন। তবে সাত ওভারে দলীয় রান তিন উইকেটে ৫৭ হওয়ার পর আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন। লেগ স্পিনার জাম্পার বলে তার শটটি ডিপ কাভারে দৌড়ে এসে তালুবন্দি করেন নিখিল চৌধুরি। ১৮ বলে ১৭ রান করেন সৌম্য।

নবম ওভারে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় চার উইকেটে ৬৮। এরপর ক্রিজে যোগ দেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাইকলাইন। ইনিংসের মাঝপথে দারুণ শুরু করেন বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট তুলে নেন তিনি। পারভেজ হোসেন স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন। ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন পারভেজ।

এরপর শামীম পাটোয়ারি ১ এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১০ রানে ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৮৬ রানে সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শেষদিকে মেহেদীর নৈপুণ্যে ১২০ রানের গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন জাম্পা এবং জোয়েল ডেভিলস। দুটি উইকেট নেন ম্যাট রেনশ।

আরো পড়ুন: