অঙ্কনের ব্যাটে চড়ে শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুলল আবাহনী

ডিপিএল
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, বিসিবি
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এক ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছিলেন দারুণ ফর্মে থাকা মাহিদুল ইসলাম অন্কন। গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ম্যাচে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্তর মত তারকারা না থাকায় দায়িত্বটা আরো বেশি ছিল তার। সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ৬৬ রানের কার্যকরী ইনিংসে কঠিন উইকেট ২২১ রানের পুঁজি পায় আবাহনী। জবাব দিতে নেমে ১৩৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর দশম উইকেটে ৭৬ রান তুলে অবিশ্বাস্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল গাজী গ্রুপও। তবে শেষ পর্যন্ত ১২ রানের জয়ে শীর্ষে থাকা মোহামেডানের সমান ১৬ পয়েন্ট এখন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

২২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো সূচনা পায় গাজী গ্রুপ। পেসাররা উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হবার পর আবাহনীকে প্রথম উইকেট এনে দেন জিসান। ১৯ রান করা ওপেনার শোভন মোড়লকে মিড উইকেটে মেহেরবের ক্যাচ বানান তিনি। ১৫ তম ওভারে ১ উইকেটে ৭৩ রান নিয়ে জয়ের পথেই ছিল গাজী গ্রুপ। তবে এরপর নাইম আহমেদ ও প্রিতম কুমারকে ফিরিয়ে আবাহনীকে ম্যাচে ফেরান নাইমুর রহমান নয়ন। এক প্রান্তে দারুণ খেলতে থাকা ইমন আলীকে ৩৪ রানে ফেরান পেসার ইকবাল হাসান ইমন।

‎এরপর আবাহনী স্পিনারদের সামনে ভেঙে পড়ে গাজী গ্রুপের ইনিংস। ৩২ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় গাজী গ্রুপ। তবে, দশম উইকেটে অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আজিজুল হাকিম রনি ও মোহাম্মদ রুবেল। দুইজনের ৭৩ রানের জুটিতে অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে তারা। ৪৫ তম ওভারে গাজী গ্রুপের স্বপ্ন ভাঙেন ইমন।

৩৪ বলে এক ছক্কা ও পাঁচ চারে ৪১ রান করা রনিকে বোল্ড করে আবাহনীর জয় নিশ্চিত করেন এই পেসার। অন্যপ্রান্তে ৩৭ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রুবেল। আট জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে আবাহনী। লিগের আরেক ম্যাচে মোহামেডান ঢাকা লেপার্ডসের কাছে হারায় শিরোপা ধরে রাখার পথে আছে ক্লাবটি।

‎এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২৯ রান তোলেন দুই ওপেনার জিসান আলম ও সাব্বির হোসেন। জিসানকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন লিয়ন ইসলাম। ১৮ হলে ১৭ রান করে এই ব্যাটার। আরেক ওপেনার সাব্বিরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আরিদুল ইসলাম আকাশ। এরপর ১০ রান করে রনির বলে আউট হন হন টুর্নামেন্টে প্রথমবার খেলতে নামা অনিক সরকার।

‎বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাকের আলী অনিকও। ১৩ বলে ৫ রান করে রনির বলে বোল্ড হন এই ব্যাটার। ৬৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। পঞ্চম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়ে মেহেরব হোসেনকে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেন অন্কন।

‎বিকেএসপির কঠিন উইকেটে ১১২ বলে ৬৬ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন অঙ্কন। সমান তিনটি করে ছক্কা ও চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস। মাহফুজুল ইসলামের বলে লং অনে প্রিতম কুমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। অন্যপ্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন মেহেরব। ৫৯ বলে একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪০ রান করেন তিনি। বড় শট খেলতে গিয়ে কাউকর্নারে ধরা পড়েন তিনি।

‎সাত নম্বরে নামা সাব্বির রহমান রুম্মান শেষদিকে দ্রুত রান তুলে আবাহনীর রান ২০০ পাড় করেন। ৩১ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৩৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় আবাহনী। গাজী গ্রুপের হয়ে রনি ও মাহফুজ তিনটি করে এবং রুবেল, লিয়ন ও আকাশ একটি করে উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: