জাকিরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এইচপির বড় জয়

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ
সেঞ্চুরির পর জাকির হাসান, বিসিবি
সেঞ্চুরির পর জাকির হাসান, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বগুড়ায় রানবন্যা বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এইচপি দল। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজের ম্যাচে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে ৫০ ওভারে ৩৬৪ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন অধিনায়ক জাকির হাসান ও ইফতেখার হোসেন ইফতি। এরপর বোলারদের দাপটে ৮৫ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ 'এ' দল। ফলে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালোই শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ে। তারা ওপেনিং জুটিতেই তুলেছিল ৬০ রান। ইনোসেন্ট কাইয়া ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙ্গে। এরপর দ্রুতই আউট হয়েছেন তাদিওনাশে মারুমানি। এই উইকেটকিপার ব্যাটার করেন মাত্র ৭ রান। দুজনকেই আউট করেন আলিস আল ইসলাম।

এরপর আনতুম নাকভিকে (৮) আউট করেছেন রোহান উদ দ্দৌলা বর্ষণ। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা ম্যাথু ক্যাম্পবেল ফেরেন ৫৬ বলে ৫২ রান করে। রয় কাইয়া আউট হন ৭ রান করে। ফলে ১১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে জিম্বাবুয়ে। এই দুই উইকেটই নিয়েছেন সামিউন বশির রাতুল।

কিছুটা বিপর্যয় সামাল দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি রায়ান বার্ল। তিনি ২০ রান করে সেই রাতুলের শিকার হয়েছেন। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। তিনি সেঞ্চুরি তুলে নিলেও তাকে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। ১১৬ রান করা মাধেভেরেকে আউট করে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ২৭৯ রানে গুটিয়ে দিয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। বর্ষণ ও রাতুল ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। পাশাপাশি দুটি উইকেট নিয়েছেন আলিস। একটি উইকেট গেছে খালেদ আহমেদের ঝুলিতে, আর একটি উইকেট নিয়েছেন সাকলাইন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ৬ রান করেই ফিরে যান ওপেনার শাহাদাত হাসান দিপু। তবে দ্রুতই চাপ সামলে নেন জাকির ও ইফতি। দুজনের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণ আর দারুণসব শটে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা।

অধিনায়ক জাকির ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ৯৭ বলে ১১৯ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে ইফতেখারও খেলেন সমান কার্যকর এক ইনিংস। মাত্র ৫৮ বলে ৭০ রান করেন এই ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। দুজনের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

এরপর মিডল অর্ডারে ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি ৩২ বলে ৩৪ রান করেন। অমিত হাসান যোগ করেন ৩১ রান। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার কাজটা করেন আকবর আলী ও রাতুল। আকবর ২৬ বলে ২৭ রান করেন, ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা। আর রাতুল খেলেন ঝড়ো এক ক্যামিও ইনিংস। ১৮ বলেই অপরাজিত ৩৯ রান করেন তিনি।

তার ব্যাট থেকে আসে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩৬৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আর্নেস্ট মাসুকু। তিনি নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া মাইকেল ফ্রস্ট ও নাকভি শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

আরো পড়ুন: