৩১৬ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়েছিল গুলশানের। ষষ্ঠ ওভারেই বিনা উইকেটে ৪৫ রানে পৌঁছে যায় গুলশান। গুলশানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। লং অনে অন্কনের দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে ১৪ রানে ফিরে যান আলিন ইমন। পরের ওভারে আরেক ওভার রহমতউল্লাহকে ফেরান পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। এবার উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন জাকের আলী অনিক।
এরপর আবাহনী স্পিনারদের ভেলিকে দিশেহারা হন গুলশানের ব্যাটাররা। রাকিবুলের সাথে অন্য দুই স্পিনার নাইমুর রহমান নয়ন ও মেহেরব একের পর এক উইকেট তুলে নেন। তিন নম্বরে নামা নিয়ন জামানকে ১২ রানে ফেরান মেহরব। এরপর বিশাল চৌধুরিকে বোল্ড করেন এই স্পিনার। মাঝে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে শাহরিয়ার সাকিবকে রান আউট করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
৮০ রানেই ৬ উইকেট হারায় গুলশান। শেষদিকে লোয়ার অর্ডারের ছোট ছোট অবদানে ১৪২ রানে পৌঁছায় তাদের ইনিংস। আবাহনীর হয়ে নয়ন তিনটি, রাকিবুল ও মেহেরব দুইটি করে এবং ইমন ও সৈকত একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) চার নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আবাহনী অধিনায়ক সৈকত। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪ রান তুলে দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন শান্ত ও সাব্বির হোসেন। ১৮ তম ওভারে অফস্পিনার আবিরের বলে ৪৫ রান করে আউট হন সাব্বির হোসেন। পরের ওভারে ফিরে যান ৩৭ রান করা শান্তও। মুসাব্বির হোসেন মুনের বলে লং অনে আব্দুর রহিমের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি।
বেশিক্ষণ টেকেননি সাব্বির রহমান রুম্মানও। বড় শট খেলতে গিয়ে মিড উইকেট অঞ্চলে সাকিবের তালুবন্দি হন তিনি। এরপর মেহেরবকে সাথে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন অন্কন। ৪৪ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৪১ রান করে জাকারিয়া শান্তর বলে বোল্ড হন মেহেরব। মেহেরব আউট হলেও একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন অন্কন। অধিনায়ক সৈকতকে সাথে নিয়ে ১১৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন এই ব্যাটার।
লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নেন অন্কন। ৯৫ বলে ছয়টি ছক্কা ও আটটি চারে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটার। অন্যদিকে ৩৪ বলে চারটি ছক্কা আর একটি চারে ৪৩ রানে আউট হন সৈকত। শেষদিকে মাহফুজুর রাব্বির তিন ছক্কায় ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিওতে ৩১৫ রানের বড় স্কোর পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ঢাকা লেপার্ডসকে হারালো গাজী গ্রুপ
আরেক ম্যাচে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে লেপার্ডসের দেয়া ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওপেনারদের ব্যাটে চড়ে সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল গাজী গ্রুপ। ওপেনার শোভন মোড়ল হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। কিন্তু মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে বাকিদের ব্যর্থতায় ১২৮ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে হারের শংকা জাগায় তারা। তবে শেষ দিকে লিয়ন ইসলাম অপরাজিত ১৪ রানের ইনিংস খেলে ১ উইকেটে গাজী গ্রুপের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পায় লেপার্ডসও। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৫ রান তোলেন সৈকত আলী ও জাকির হাসান। ৬৭ রান করা সৈকত ও ৪৫ রান করা জাকির ফিরে যাবার পর ধ্বসে পড়ে লেপার্ডসের ইনিংস। ৪৪ রানে শেষ আট উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারে ১৫৩ রানেই গুটিয়ে যায় লেপার্ডস। অষ্টম ম্যাচে এটি গাজী গ্রুপের চতুর্থ জয়। অন্যদিকে আট ম্যাচে সমান চারটি করে জয় ও হার লেপার্ডসের।