ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ
হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের; তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের; তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সাইফ হাসান ও লিটন দাসের জুটি ভাঙার পর থেকে একটু একটু করে চাপে পড়তে থাকে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে লিটন ফিরলে মন্থর ব্যাটিংয়ে আরও চাপ বাড়িয়েছেন হৃদয় ও আফিফ হোসেন। শেষ বেলায় এসে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে ড্রেসিং রুমে ফিরতে থাকেন আফিফ, মেহেদী হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলামরা। একটু পর ফেরেন তাসকিন আহমেদও। সেই ওভার থেকে আসে ২ রান। তখনো ১২ বলে ৩৩ রান করতে হতো বাংলাদেশকে, বিশেষ করে হৃদয়কে। একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তখন উইকেটে ছিলেন তিনি। তবে সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। নাথান স্মিথের লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ৬ বলে ২ রান করা বাঁহাতি ওপেনার। পরের বলে আউট হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তিনিও বোল্ড হয়েছেন স্মিথের বলে। টানা দুই বলে দুই উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাইফ ও লিটন।

দুজনেই দেখেশুনে ব্যাটিং করতে থাকেন। সাবধানী ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরিও করেন সাইফ। জশ ক্লার্কসনের টানা তিন বলে তিন চার মেরে ৫৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাইফ। পেসার উইল ও’রুর্কের বলে মিড অনের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন সাইফ। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় ৭৬ বলে ৫৭ রানে ফিরতে হয় ডানহাতি ওপেনারকে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি লিটন।

ফক্সক্রফটের টার্ন করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয়েছে তাকে। লিটনের বিদায়ের পর আফিফ ও হৃদয়ের মন্থর ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দেখেশুনে ব্যাটিং করলেও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি তারা। চাপ থেকে বের হতে গিয়ে আউট হয়েছেন আফিফ। জেডন লেনক্সের বলে ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়েছেন ৪৯ বলে ২৭ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটার।

একটু পর আউট হয়েছেন মিরাজও। টিকতে পারেননি রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। একটু পর স্মিথকে ছক্কা মেরে ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন হৃদয়। সেই ওভারেই ফেরেন তিনিও। শেষ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় আউট হওয়ায় ২২১ রানে থামতে হয় বাংলাদেশকে। হৃদয় আউট হয়েছেন ৬০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে। নিউজিল্যান্ডের টিকনার চারটি ও স্মিথ তিনটি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখে টাইগার পেসাররা। এর সুফল মেলে দ্রুত। ২৩ বলে সাত রান করা নিক কেলিকে বিদায় করেন শরিফুল। তারপর উইল ইয়াংকে সঙ্গে নিয়ে ৭৩ রানের জুটি গড়েন নিকোলস। রিশাদ হোসেন এই জুটি ভাঙার কিছুক্ষণ পরই দলীয় একশ রান পার করে নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১২৭ রানে অধিনায়ক টম লাথামকে বোল্ড করে ফেরান মিরাজ। তারপর ১৬৫ রানের মধ্যে নিকোলস (৬৮) এবং মুহাম্মদ আব্বাসকে (৮) বিদায় করে বাংলাদেশের বোলাররা।

হাফ সেঞ্চুরিয়ান নিকোলসের উইকেটটি নেন রিশাদ হোসেন। শেষদিকে জশ ক্লার্কসন (১৮), নাথান স্মিথদের (২১*) সাথে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ফক্সক্রফট। যদিও দ্রুত রান তোলার মিশনে নাহিদ রানার ধীরগতির ইয়র্কারে বোল্ড হন তিনি। ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। ফক্সক্রফট ফেরার পর স্মিথের নৈপুণ্যেই মূলত আড়াইশ রানের কাছাকাছি পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ও রিশাদ।

আরো পড়ুন: