২০২৩ বিশ্বকাপের সময় পিঠের ইনজুরিতে পড়েন রশিদ। তখন ব্যস্ত সূচি থাকায় ইনজুরি নিয়েই খেলে যাচ্ছিলেন তিনি। ইনজুরি নিয়ে খেলে যাওয়াটা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে গেছে তার শরীরে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাই এখন আগের সেই ভুল করতে চান না রশিদ। ক্যারিয়ার লম্বা করতে তাই টেস্ট ক্রিকেটের ধকল আর না নেবার সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের সাবেক টেস্ট অধিনায়কের।
রশিদ বলেন, 'ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, "যদি তুমি ক্রিকেট খেলতে না চাও, তাহলে লাল বলের ক্রিকেট খেলতেই থাকো। কারণ এটা তোমাকে সাহায্য করবে না। তুমি দীর্ঘ সময় ধরে আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে পারবে না।" কিন্তু তারপরও আমি খেলেছি, খেলতে থাকলাম। আর যখন তিনি জানলেন যে আমি এক ইনিংস বা দুই ইনিংসে ৬৭ (মূলত ৫৫ ওভার) ওভার বল করেছি, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। তিনি বললেন, "না, তুমি নিজের সাথে এটা করতে পারো না।" আমি এটা নিয়ে ভাববো।'
২০১৭ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আফগানিস্তান নয় বছরে খেলেছে মোট ১২ টি টেস্ট। অধিনায়ক হিসেবে আফগানদের প্রথম টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া রশিদ খেলেছেন কেবল ৬ টি টেস্ট। এমন অবস্থায় নিজের টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি সম্ভাবনা না দেখায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রশিদ বলেন, 'আমি আগেও একটা টেস্ট খেলেছি (২০২৫ সালে)। তাই আমি এখন একটু ধীরে-সুস্থে আগাতে চাই। আমি নিজেকে বিশ্বকাপের (২০২৭ বিশ্বকাপ) জন্য প্রস্তুত রাখতে চাই। ভাবুন তো, টেস্ট ম্যাচে যদি আমার পিঠে কিছু হয়ে যায়! আমি তো ১০০টা টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারব না। যদি বছরে একটা টেস্ট খেলি, তাহলে ১০০ বছর খেলতে হবে ১০০টা টেস্ট খেলতে- যা সম্ভব না। আর টেস্ট ক্রিকেটে তেমন কোনো নির্দিষ্ট টার্গেটও নেই।'
নিজের ছয় টেস্টের ক্যারিয়ারে ১১ ইনিংসে মাত্র ২০ গড়ে ৪৫ উইকেট শিকার করেছেন রশিদ। সবশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের মাটিতে। সেই ম্যাচের দুই ইনিংসে মোট ৫৫ ওভার বল করার ধকলই তাকে আরো সাবধান করে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের বিষয়ে।
রশিদ আরো যোগ করেন, 'আমি ভালো ফিটনেসে আছি আফগানিস্তানের হয়ে দীর্ঘ সময় ওডিআই খেলতে পারার জন্য, তবে আমি চেষ্টা করছি কতগুলো ম্যাচ খেলছি সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে, নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না নিতে, যাতে আমি দীর্ঘ সময় খেলতে পারি।'
'কিন্তু বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেট আমার জন্য চালিয়ে যাওয়া একটু কঠিন মনে হচ্ছে। হ্যাঁ, বছরে একটি মাত্র টেস্ট আমি খেলতে পারব। তবে আমার মনে হয় না এর বেশি আমি খেলতে পারব। আমি চেষ্টা করব। আমি খেলতে পারি, কিন্তু [শুধু] যদি আমি ২০–২৫ ওভারের একটা স্পেল করতে পারি। কিন্তু তখন আমাকে পুরো দিন বোলিং করতে হয় যদি আমি দলে থাকি। শেষ দুইটি টেস্ট ম্যাচ ধরলে আমি ১৬৭ (মূলত ১৫৪.২) ওভার বল করেছি, যা আমার মতে অনেক বেশি।'