গলের স্পিন সহায়ক উইকেটে নিজেদের জাত আরও একবার চেনালেন নাথান লায়ন ও ম্যাথু কুনেমান। তাদের অসাধারণ বোলিংয়ের পরও দিনেশ চান্দিমাল ও কুশল মেন্ডিসের হাফ সেঞ্চুরিতে দুইশ পার করেছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা হচ্ছে না মিচেল মার্শের। এই অলরাউন্ডারকে না পাওয়া বড় ক্ষতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য। বৃহস্পতিবার সকালেই আরও বোমা ফাটিয়েছেন মার্কাস স্টইনিস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থাকা এই অলরাউন্ডার ওয়ানডে ফরম্যাট থেকেই আকস্মিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মার্কাস স্টইনিস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঠিক আগমুহূর্তে ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়লেন অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার। অনেকটা আচমকাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টইনিস। তার ওয়ানডে ছেড়ে দেওয়ার মূল কারণ, টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় আরও বেশি মনোযোগী হওয়া।
আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খুনে ব্যাটিংয়ে আলো কেড়েছিলেন অভিষেক শর্মা। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মারকাটারি ব্যাটিং ধরে রেখেছেন জাতীয় দলের জার্সিতেও। পাওয়ার-হিটিং দক্ষতার দেখিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজে আরও একবার নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন। সমান একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে সবচেয়ে বেশি ২৭৯ রান করেছেন অভিষেক।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে অনেকটা অলিখিতভাবেই ছিটকে গেছেন প্যাট কামিন্স। চোটে পড়া এই পেসার এখনও বোলিংই শুরু করতে পারেননি। শেষপর্যন্ত কামিন্স না খেললে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দেবেন স্টিভ স্মিথ অথবা ট্রাভিস হেড। এমনটা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
ভারতের বিপক্ষে শেষ দুই টেস্টে ১১৩ রান করেছিলেন স্যাম কনস্টাস। আলোচনায় থাকার মতো পারফরম্যান্স না করলেও বিরাট কোহলির সঙ্গে তর্কে জড়ানো এবং জসপ্রিত বুমরাহর বিপক্ষে সাহসী ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ানদের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। তবে শ্রীলঙ্কা সফরে তাকে সরিয়ে বছর দুয়েক পর ওপেনিংয়ে জায়গা দেয়া হয় ট্রাভিস হেডকে। যদিও বাঁহাতি এই ব্যাটার নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে উসমান খাওয়াজার সঙ্গে কনস্টাসই ওপেন করবেন।
প্রায় দুই বছর পর টেস্ট খেলতে নামা ম্যাথু কুনেমান ও অভিজ্ঞ নাথান লায়নের স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না লঙ্কান ব্যাটাররা। স্বাগতিকদের গুঁড়িয়ে দিয়ে গল টেস্টে ইনিংস ও ২৪২ রানের জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অজিদের এটাই সর্বোচ্চ রানের জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১২ সালে মেলবোর্নে ইনিংস ও ২০১ রানের জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলেই ওশাদা ফার্নান্দো, দিমুথ করুনারত্নে এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের উইকেট তুলে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তিন উইকেটে ৪৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করা শ্রীলঙ্কাকে তৃতীয় দিনের সকালে দ্রুতই গুটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন বিভোর ছিল সফরকারীরা। কামিন্দু মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে সেই পথে খুব ভালোভাবেই ছিলেন স্টিভ স্মিথরা।
প্রথমদিনই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন উসমান খাওয়াজা ও স্টিভেন স্মিথ। তাদের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেছিল অজিরা। দুজনেই অপরাজিত থেকে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিলেন। দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি পেয়েছেন আরেক অজি ব্যাটার জস ইংলিস।
ভারতের বিপক্ষে শেষ টেস্টেই ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন স্টিভ স্মিথ। তবে ভারতীয় পেসার প্রসিধ কৃষ্ণার বলে ৪ রানে ফিরেছিলেন এক রানের আক্ষেপ নিয়ে। শ্রীলঙ্কা সফরে এসে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন প্রবাথ জয়াসুরিয়ার বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে। ১০ হাজার রানের রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে স্মিথ অপরাজিত ছিলেন ১০৪ রানের ইনিংস খেলে। আরেক ব্যাটার উসমান খাওয়াজা অপরাজিত ১৪৭ রানে। তাদের দুজনের সেঞ্চুরিতে ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনে ৩৩০ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া।
সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলসে জন্ম নেয়া স্টিভ স্মিথের সুযোগ ছিল নিজের শহরের মানুষের সামনে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার। তবে মাত্র এক রানের জন্য আটকে গিয়েছিলেন তিনি। স্মিথের এক রানের আক্ষেপে উদযাপন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া কিংবা সিডনির সমর্থকরা। যদিও ডানহাতি ব্যাটারের ১০ হাজার রান উদযাপন করতে ৮ হাজার ৩৫৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে শ্রীলঙ্কায় এসেছেন অস্ট্রেলিয়ান এক সমর্থক।