টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ গড়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার মতো বোলিং আক্রমণও প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের গভীরতাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিয়মিত বোলার কমিয়ে ফেললে চাপের মুখে পড়তে পারে দল। ভারতের সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রসঙ্গ টেনে গাভাস্কার তাই একাদশে অন্তত চারজন নিয়মিত বোলার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
জিওস্টারে আলোচনায় গাভাস্কার বলেন, 'আমরা বোলিং দেখার সুযোগই পাইনি। এই নয় ওভারের খেলায় ভারতীয় বোলাররা কীভাবে বোলিং করত, তা দেখা আকর্ষণীয় হতো। এই সিরিজ থেকে শিক্ষা হলো, বোলিং আক্রমণে অন্তত চারজন নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলতে হবে ভারতকে।' তার মতে, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বোলারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন অলরাউন্ডাররা। এতে ব্যাটিংয়ের শক্তিও বজায় থাকবে, আবার বোলিংয়েও দুর্বলতা তৈরি হবে না।
একাদশে আটজন ব্যাটার রাখার প্রবণতিকে ভারতের সমস্যার অন্যতম কারণ মনে করেন গাভাস্কার। তার মতে, আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের গভীরতা নিশ্চিত করতে গিয়ে বোলিং আক্রমণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প খোঁজার চেষ্টারও সমালোচনা করেছেন তিনি। গাভাস্কারের ভাষায়, 'হার্দিক পান্ডিয়ার বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা কখনো কখনো বেশি দূর এগিয়ে যাই। হার্দিকের মতো খেলোয়াড়ের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর মানের কাউকে না পেলে ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে, এমন কাউকে দলে নিতে হবে।'
বিকল্প হিসেবে নামান ধীর ও অক্ষর প্যাটেলের মতো খেলোয়াড়দের কথা বলেছেন গাভাস্কার। তার মতে, নামান মূলত ব্যাটার হলেও প্রয়োজনে দুই-তিন ওভার বোলিং করতে পারেন। অন্যদিকে, অক্ষর প্যাটেল নিয়মিত চার ওভার বোলিং করার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে সক্ষম। এ ধরনের অলরাউন্ডারদের যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারতকে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে আলাদা করে আটজন ব্যাটার খেলানোর প্রয়োজন হবে না।
একই আলোচনায় ভারতের সাবেক ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারাও বোলিং আক্রমণের গঠন নিয়ে নিজের মতামত দিয়েছেন। তার মতে, দলের স্পিন বোলিংয়ের সমন্বয় ঠিক করা এবং স্পিনারদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক বোলার নির্বাচন যেমন জরুরি, তেমনি প্রত্যেক বোলারের কাছ থেকে কী ধরনের ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেটিও পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।
রাঁচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর ভারতের দল নির্বাচন ও বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে গাভাস্কারের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় শেষ হয়; শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজ জিততে পারেনি ভারত। ফলে শুধু ব্যাটিংয়ের জোরে ম্যাচ জেতার চেষ্টা নয়, বরং কার্যকর বোলিং আক্রমণ গড়ে তোলা এবং অলরাউন্ডারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানোও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।