উইকেটকিপার হিসেবে ধোনি পেছন থেকে উইকেটের আচরণ বুঝতে পারতেন, একই সঙ্গে ব্যাটারদের গতিবিধিও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বোলারদের দিতেন তাৎক্ষণিক পরামর্শ। বিশেষ করে চাহাল ও কুলদীপের মতো রিস্ট স্পিনারদের জন্য ধোনির এই নির্দেশনা ছিল কার্যকর।
চাহাল বলেন, ‘আমার আর কুলদীপের কাজ ৫০ শতাংশ সহজ হয়ে যেত। কারণ, অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি পেছন থেকে বুঝতে পারতেন উইকেটে কী হচ্ছে। সেখান থেকেই বলতেন, বেশি কিছু করার দরকার নেই, স্টাম্প বরাবর বল করে যাও। এমনিতেই ব্যাটাররা আউট হয়ে যাবে.'
ধোনির পরামর্শ কতটা কার্যকর ছিল, তার একটি উদাহরণও দিয়েছেন চাহাল। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেঞ্চুরিয়নে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২২ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে জেপি ডুমিনিকে আউট করার পেছনে ধোনির কৌশল কাজে দিয়েছিল বলে জানান চাহাল।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে এই স্পিনার বলেন, ‘সেঞ্চুরিয়নে ২০১৮ সালে যখন পাঁচ উইকেট নিয়েছিলাম, তখন জেপি ডুমিনি ব্যাটিং করছিল। ধোনি আমাকে বলেছিলেন, স্টাম্প বরাবর বল করতে, আর নিজের মতো করে গতির পরিবর্তন করতে। আমি বলটা একটু ধীরে করেছিলাম। দুই-তিন বলের মধ্যেই ডুমিনি সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যায়।'
সেই ম্যাচে সাউথ আফ্রিকাকে মাত্র ১১৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ভারত। কুলদীপও নিয়েছিলেন তিন উইকেট। পরে নয় উইকেটের বড় জয় পায় ভারত। ধোনির পরামর্শ কীভাবে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলত, ম্যাচটি ছিল তারই একটি উদাহরণ।
ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তার অনুপস্থিতি যে অনুভব করেছেন, সেটিও স্বীকার করেছেন চাহাল। তবে তত দিনে দুই স্পিনারকে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার মতো তৈরি করে দিয়েছিলেন ধোনি। ধোনির অবসর প্রসঙ্গে চাহাল বলেন, ‘তিনি আমাদের পরিণত করে তুলেছিলেন, যাতে আমরা বুঝতে পারি কী করতে হবে। তবে হ্যাঁ, তার না থাকায় অবশ্যই পার্থক্য হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাকে ও কুলদীপকে সেভাবেই প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন।'