পাকিস্তানের হাইকোর্টে গিয়েও পার পেলেন না রিজওয়ান

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে ঘণ্টা দুয়েক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। পরবর্তীতে পাকিস্তান জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটারকে নোটিশও দিয়েছে সংস্থাটি। এনসিসিআইএ-এর নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে রিট করেছিলেন রিজওয়ান। তবে ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের সেই রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে লাহোর হাইকোর্ট।

লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আবেদনটির শুনানি করেন। যেখানে রিজওয়ানের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী উমাইর আলী। শুনানি চলাকালীন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারের আইনজীবী যুক্তি দেন রিজওয়ানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সেই সময় তিনি জানান, লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ানকে হোটেলের লবিতে ডাকা হয়েছিল।

সেই সময় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটারের মোবাইল ফোনটি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। রিজওয়ানকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে। তবে এখনো ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনজীবী উমাইর।

এমন কার্যকলাপকে অসৎ উদ্দেশ্যের নির্দেশনা হিসেবে দেখছেন তিনি। উমাইর আরও যুক্তি দেন যে, কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকে তাহলে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট দেখবে। অথচ রিজওয়ানের বিষয়ে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাঠানো হয়নি। শুনানি চলাকালীন মামলার নথিপত্র আদালতে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন রিজওয়ানের আইনজীবী।

এমন অবস্থায় উমাইরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি আলিয়া। পাশপাশি প্রধান বিচারপতি রিজওয়ানকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে যখন ১০ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছিল তখন আপনি তাতে সাড়া দিয়েছিলেন। তাহলে এখন আদালতে আসার কারণ কী? ’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সেখানে যান, বিষয়টি তাদের জানান এবং নোটিশের জবাব দিন।’

পরবর্তীতে আদালত রিজওয়ানের রিট আবেদনটি খারিজ করে দেয়।ডানহাতি উইকেটকিপারকে পাঠানো এনসিসিআইএ-এর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে অনলাইন বাজি ও জুয়া সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। তবে তাকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ব্যাপারে জানানো হয়নি বলে জানান রিজওয়ান। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীদের কাছে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলেও সেটার উত্তর পাননি ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার।

যদিও কুরিয়ারের মাধ্যমে নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং তার মোবাইল কেন ফেরত দেওয়া হয়নি সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টের পর পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নিয়ে নানান অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ ওঠায় ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

আরো পড়ুন: