তবে এই অবস্থান থেকেও ম্যাচের ফল নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। প্রথম টেস্টে শেষ ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের স্মৃতি এখনও তাজা। তাই চতুর্থ ইনিংসে তাদের সামনে যে লক্ষ্যই আসুক না কেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
দিনের শুরুতে দুই উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। আগের দিনের অপরাজিত আবদুল্লাহ শফিক এক প্রান্ত আগলে রেখে ১৬০ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দল। শেষ পর্যন্ত ৩৮৭ রানে থামে তাদের প্রথম ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিক্যান একাই নেন ছয় উইকেট।
দিনের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ৮৮ রানে রান আউট হন বাবর আজম। ফলে দীর্ঘদিনের সেঞ্চুরির অপেক্ষাও কাটেনি তার। এরপর অভিষিক্ত আওয়াইস জাফর ও সালমান আলী আঘাও দ্রুত ফিরে গেলে অল্প ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বলে ওয়ারিক্যানের দারুণ এক বলে তিনিও বিদায় নেন। এরপর আবদুল্লাহ শফিক ও সাজিদ খানের ৫৯ রানের জুটিতে পাকিস্তান কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেলেও সাজিদ ৩০ রানে আউট হওয়ার পর শেষ দিকের ব্যাটাররা আর প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
শেষ তিনটি উইকেট কোনো রান যোগ না করেই হারায় পাকিস্তান। ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ওয়ারিক্যানের এটি তৃতীয়বার, তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৪৩ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
কিং ব্যাট করতে না পারায় ত্যাগনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে নামেন কাভেম হজ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার মিলে ৪০ রান যোগ করে দলের ভালো সূচনা এনে দেন। তবে স্পিন আক্রমণে আসতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।
সাজিদ খান প্রথমে ফিরিয়ে দেন চন্দরপলকে (১৭), এরপর বিদায় করেন আমির জাঙ্গুকেও (১৩)। অন্য প্রান্ত থেকে আলী উসমান থামান থিতু হয়ে যাওয়া হজকে (৩৪)। পরে শেই হোপ ও রস্টন চেইস জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ বিকেলে পাকিস্তানের স্পিনাররা আবারও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয়।
দিনের শেষ ভাগে চার রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাজিদ খানের শিকার হন ১৫ রান করা হোপ ও শুন্য রান করা সিলস। দিনের খেলায় আর মাত্র দুটি বল বাকি থাকতে আলি উসমানের বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ধরা দেন অধিনায়ক রস্টন চেইজ (১৭)। এতে দিনের সমাপ্তি হয় পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির।