আব্দুল্লাহর সেঞ্চুরি মিস ও পিয়ানের হাফ সেঞ্চুরি, জীবনের ৫ উইকেট

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে সকালের সময়টা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগালেন মালয়েশিয়ার পেসার আরিফ উল্লাহ। টপ অর্ডারে জ্বলে উঠতে পারলেন না জাওয়াদ আবরার, ইকবাল হোসেন, রিজান হোসেনরা। একশ রানে পাঁচ উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে পথ দেখান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান। তাদের দুজনের শতরানের জুটিতে তিনশর কাছাকাছি পুঁজি পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। স্বাগতিকদের জেতাতে বাকি কাজটা সেরেছেন মারুফ মৃধা, শেখ পারভেজ জীবন, স্বাধীন ইসলামরা। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৫৩ রানে।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন জাওয়াদ। আরিফের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে কভারে ক্যাচ দিয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। আউট হয়েছেন ৮ বলে ৫ রান করে। একই ওভারের শেষ বলে আউট হয়েছেন আরেক ওপেনার ইকবালও। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন।

রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয়েছে ইকবালকে। একই দশা রিজানেরও। ৪ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। আরিফের অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার চেষ্টায় উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়ছেন। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বিপদ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন ও শাহরিয়ার সাকিব। তারা দুজনে মিলে ৪০ রান যোগ করেন। সাকিবের বিদায়ে ভাঙে তাদের জুটি।

বিজয় উন্নতির স্কিড করা ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন ২১ রান করা সাকিব। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অ্যালিন। উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক। ফিরেছেন রান আউটে কাটা পড়ে। ৫৬ বলে ৩৪ রান করেছেন অ্যালিন। একশ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন আব্দুল্লাহ ও আহরার।

তাদের দুজনের ব্যাটেই দুইশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে অবশ্য দুজনই হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ৬৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আব্দুল্লাহ। আরেক ব্যাটার আহরার পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫৮ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি আহরার। মুহাম্মদ আমিরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে বাঁহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন লং অফে। ৫ ছক্কা ও ৪ চারে ৬২ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছেন আহরার।

বাঁহাতি ব্যাটার ফিরলেও সেঞ্চুরির পথে ভালোভাবেই ছিলেন আব্দুল্লাহ। তবে তাকে সেঞ্চুরি করতে দেননি সাইফুল্লাহ মালিক। ডানহাতি স্পিনারের বলে বোল্ড হয়েছেন ১০০ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলে। চারটি ছক্কার সঙ্গে সাতটি চারও মেরেছেন আব্দুল্লাহ। শেষের দিকে ১৮ বলে ৩৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন পারভেজ জীবন। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৯০ রান তোলে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার হয়ে একাই চারটি উইকেট নিয়েছেন আরিফ।

রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে মালয়েশিয়া। ম্যাচের কোনো পর্যায়েই জয়ের আশা জাগাতে পারেননি। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন ৮ নম্বরে নামা আহমদ জুবাইদি। এ ছাড়া সাইফুল্লাহ ২১. সৈয়দ জুনায়েদ খান ২১ ও বিজয় ১২ রান করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে একাই ধস নামিয়েছেন জীবন। ৭.৫ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফ ও স্বাধীন।