২০২৬ সালের শুরুতে টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপ জিতলেও সাম্প্রতিক সময়টা ভালো যাচ্ছে না ভারতের। কদিন আগেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছেন শ্রেয়াস আইয়াররা। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত হেরেছে ৪-০তে। প্রথম ওয়ানডেতে জিতলেও পরের ম্যাচে হেরেছে সফরকারীরা। পাশাপাশি দ্বিতীয় ম্যাচে চোটে পড়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
এমন পরিস্থিতিতেও কুলদীপকে দলে ডাকেনি ভারত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের জাতীয় দলে খুব বেশি সুযোগ মিলছে না কুলদীপের। আকাশ মনে করেন, ভারতের ব্যাটিং, বোলিং কিংবা দলীয় ব্যর্থতায় সবার আগে ভুক্তভোগী হন বাঁহাতি এই স্পিনার। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আকাশ বলেন, ‘তাকে (কুলদীপ) নিয়ে যতই ভাববেন ততই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ছেলেটির সঙ্গে বারবার কেন অবিচার করা হয়?’
সে কেন কখনো পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না? আমরা তার সঙ্গে যে ঠিকঠাক আচরণ করছি না সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেটের একাধিক ফরম্যাটে এমনটা হয়েছে। ভারতের মাটিতে হোক কিংবা দেশের বাইরে— কৌশলগত পরিবর্তন, দলের খারাপ পারফরম্যান্স কিংবা ব্যাটিং ব্যর্থতা, যেকোনো কিছুরই প্রথম ভুক্তভোগী কুলদীপ যাদব। দল থেকে সবার আগে তাকেই বাদ দেওয়া হয়।’
২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়ার পর ৯ বছরে এখনো পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫৪ ম্যাচ খেলেছেন কুলদীপ। একই বছর ওয়ানডেতে অভিষেক বাঁহাতি স্পিনার খেলেছেন ১২১ ম্যাচ। সংখ্যাটা সবচেয়ে কম টেস্টে। ২০১৭ সালে অভিষেক হলেও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ১৮ ম্যাচের বেশি খেলার সুযোগ হয়নি তার। অথচ ১৮ ম্যাচেই ৭৯ উইকেট নিয়েছেন ২২.৩৫ গড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অলরাউন্ডারদের বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ভারত।
স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি খানিকটা ব্যাটিং করতে পারায় ভারতের নির্বাচকদের পছন্দের তালিকায় আছেন ওয়াশিংটন ও অক্ষর প্যাটেল। দুজন স্পিনারকে খেলালেও মাঝের ওভারগুলোতে পর্যাপ্ত উইকেট এনে দিতে পারছেন না। এমন অবস্থায়ও কুলদীপকে বিবেচনা না করায় খানিকটা হতাশ আকাশ। বিষয়টা যে একদমই ভালো লাগছে না সেটাও প্রকাশ্যেই বলেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার।
আকাশ বলেন, ‘সে এত বছর ধরে খেলছে অথচ তার ম্যাচের সংখ্যা হাতেগোনা। কেউ একটু ভালো করলেই কুলদীপের পরিবর্তে তাকে খেলানো হয় অথবা কেউ একটু ব্যাটিং পারে এমন অলরাউন্ডারকে দলে নেওয়া হয়। এভাবে কুলদীপ যাদবকে দলে জায়গা দিতে না পারাটা সত্যিই এক ট্র্যাজেডি।’
বাঁহাতি স্পিনারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে যখন মাঝের ওভারগুলোতে খেলা খানিকটা ধীরগতির হয়ে পড়ে তখন আপনার উইকেট নেওয়ার মতো বোলার প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতেও কুলদীপকে নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করাটা দুঃখজনক। তার সঙ্গে একদমই ঠিক হচ্ছে না। আমার মনে হয় তাকে একাদশে খেলানোর চিন্তা করা উচিত। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। বিষয়টা আমার একদমই ভালো লাগছে না।’