না ফেরার দেশে শাপুর জাদরান

আফগানিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফগানিস্তানসহ বিশ্ব ক্রিকেটে।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামে বিরল ও জটিল রোগে ভুগছিলেন। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুতর সমস্যা, যা শরীরে অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

গত কয়েক মাস ধরে ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের অক্টোবরে প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন জাদরান। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি।

চিকিৎসার পর প্রথম দিকে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আফগানিস্তানের এই সাবেক তারকা পেসার।

এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) শোক প্রকাশ করে জানায়, ‘গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।’

আফগানিস্তান ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার ছিলেন শাপুর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির উত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। গতিময় ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য পরিচিত এই বাঁহাতি পেসার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি সেই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের একজন, যাদের হাত ধরে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে জায়গা করে নেয়।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এবং ২০১১ সালে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় জাদরানের। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট শিকার করেন। নতুন বলে সুইং, গতি এবং আগ্রাসী বোলিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় আফগান পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১০, ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আফগানিস্তানের স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন শাপুর জাদরান। এছাড়া আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার পারফরম্যান্স আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরো পড়ুন: