বিশ্বকাপসেরা একাদশে অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টুর্নামেন্টসেরা একাদশ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ চারজন ক্রিকেটার এই দলে জায়গা পেয়েছেন। রানার্সআপ ইংল্যান্ড থেকে আছেন দুজন, আর বাকি ছয় খেলোয়াড় আছেন ছয়টি ভিন্ন দেশ থেকে। স্কটল্যান্ডের ডারসি কার্টার নির্বাচিত হয়েছেন দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে।

অস্ট্রেলিয়াকে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক সোফি মোলিনিউক্সকে টুর্নামেন্টসেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে। উইকেটকিপারের দায়িত্ব পেয়েছেন বেথ মুনি, যিনি ফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো একই বিশ্বকাপে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট ও প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল হওয়ার কীর্তি গড়েছেন।

আইসিসির প্রতিনিধি গৌরব সাক্সেনা, ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ, অঞ্জুম চোপড়া, জুলিয়া প্রাইস ও এবোনি রেইনফোর্ড-ব্রেন্ট এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধি ভালকিরি বেইন্সের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল এই দল নির্বাচন করেছে। ইংল্যান্ডের ওপেনার ড্যানি ওয়ায়াট-হজ সাত ম্যাচে ৩০২ রান করে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই তিনি প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে আছেন বেথ মুনি।

তিন নম্বরে রাখা হয়েছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্টকে। মাত্র চার ম্যাচ খেলেও টানা চার ইনিংসে ৪০-এর বেশি রান করেন তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ এবং ফাইনালে অপরাজিত ৫৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। চার নম্বরে আছেন এলিস পেরি। গ্রুপ পর্বে টানা দুটি অর্ধশতকের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনবার ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডের ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দলকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় এনে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৩ রানের ইনিংসসহ পুরো টুর্নামেন্টেই ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ছয় নম্বরে থাকা নিলাক্ষিকা সিলভা শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি ম্যাচে ম্যাচসেরা হন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৪ এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ২১ রান করে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মারিজান ক্যাপ ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দারুণ পারফরম্যান্স করেন। ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংসের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে ৮ উইকেট শিকার করেন। অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়ক অ্যাশলি গার্ডনার দুটি অর্ধশতকের পাশাপাশি সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসও খেলেন তিনি। অধিনায়ক সোফি মোলিনিউক্সও টুর্নামেন্টে ১১ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

ভারতের বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চারণি মাত্র পাঁচ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্কটল্যান্ডের ডারসি কার্টার। পাঁচ ম্যাচে ২০৮ রান করে তিনি স্কটল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির টুর্নামেন্টসেরা দলে জায়গা পেলেন।

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টুর্নামেন্টসেরা একাদশ: ড্যানি ওয়ায়াট-হজ, বেথ মুনি (উইকেটকিপার), ন্যাট সিভার-ব্রান্ট, এলিস পেরি, ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট, নিলাক্ষিকা সিলভা, মারিজান ক্যাপ, অ্যাশলি গার্ডনার, ফাতিমা সানা, সোফি মোলিনিউক্স (অধিনায়ক) ও শ্রী চারণি। দ্বাদশ খেলোয়াড়: ডারসি কার্টার।

আরো পড়ুন: