শান মাসুদের নেতৃত্বে ধারাবাহিক ব্যর্থতাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে জানিয়েছে পিসিবি। দলের জয়ের সম্ভাবনা থাকা একাধিক ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় বোর্ডের আস্থা হারিয়েছেন তিনি। মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৬টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে জিতেছে মাত্র চারটিতে, আর হেরেছে ১২টিতে।
পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ বলেন, 'মাসুদের অধিনায়কত্বে অনেক জেতা ম্যাচ হেরেছি। সেঞ্চুরিয়নে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ দুই ব্যাটার ৬০-৭০ রানের জুটি গড়েছিল। ম্যাচ তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেখান থেকে আমরা হেরে যাই। আবার মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো অবস্থান থেকে পুরো দল দ্রুত অলআউট হয়ে যায়।'
অধিনায়কের দায়িত্ব শুধু মাঠে সিদ্ধান্ত নেয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়াও তার অন্যতম কাজ বলে মনে করেন আকিব। তিনি বলেন, 'কিছু দায়িত্ব দলের, কিছু নির্বাচকদের। তেমনি কিছু দায়িত্ব অধিনায়কেরও থাকে। বোলার পরিবর্তন, মাঠে ফিল্ডিং সাজানো, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন নেওয়া কিংবা টসে জয়- সবকিছুর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে জেতানো। সেটা না পারলে প্রশ্ন উঠবেই।'
পরিসংখ্যানও মাসুদের বিপক্ষে কথা বলছে। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রথম ১৬ টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই হেরেছে, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো অধিনায়কের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক সূচনাগুলোর একটি। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হার এবং টানা সাতটি টেস্টে পরাজয়ও তার নেতৃত্বের সময়েই এসেছে। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে এটিই যৌথভাবে টানা সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড।
তবে নেতৃত্ব হারালেও দলে নিজের জায়গা হারাচ্ছেন না শান মাসুদ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ব্যাটার হিসেবে তার পারফরম্যান্সে তারা সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হওয়ার পর তার ব্যাটিং গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪.০৬, যা নেতৃত্ব পাওয়ার আগের ২৮.৫১ গড়ের চেয়ে ভালো। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের দলেও রাখা হয়েছে তাকে।