পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চেয়ে তার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সবসুয় ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা। কদিন পরেই ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন সাদা বলের অধিনায়ক ব্রুক।
ব্রুক স্পষ্ট করেই বলেন, ‘এটা অবশ্যই আমার জন্য বড় সম্মানের হবে। আমাদের খেলার সর্বোচ্চ সংস্করণে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া সত্যিই বিশেষ কিছু। আমার কাছে টেস্ট ক্রিকেটই সর্বোচ্চ পর্যায়। জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জনই হলো ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলা। ছোটবেলা থেকেই এটাই আমার স্বপ্ন ছিল। সিদ্ধান্তটা অবশ্য আমার হাতে নেই। তবে সুযোগ পেলে আমি আনন্দের সঙ্গেই দায়িত্ব নিতে রাজি।’
স্টোকস অবসরের আগে ব্রুককেই পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করে গেছেন। পাশাপাশি সহ-অধিনায়ক হিসেবে স্টোকসকে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন ব্রুক। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব পাওয়ার কথা ব্রুকের। ব্রুক্কে অধিনায়কের দায়িত্বে শতভাগ সমর্থন দিয়ে গেছেন স্টোকস।
এদিকে ৬৫টি টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া রুট অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘমেয়াদে সেই ভূমিকায় থাকতে আগ্রহী নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে জ্যাকব বেথেলের নামও আলোচনায় থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ব্রুক। তবে নিজের বদলে দ্বিতীয় টেস্টে রুটকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করেন ব্রুক।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সিদ্ধান্তটা একদম ঠিক ছিল। রুটি দীর্ঘদিন ধরে ইসিবির জন্য অসাধারণ অবদান রেখে এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের অন্যতম স্তম্ভ সে। আমার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ব্যাটারও সে। সেই সময়ে বোর্ডের ওকে প্রয়োজন ছিল এবং সে দায়িত্ব নিয়েছে। আমার কাজ ছিল তাকে যতটা সম্ভব সহায়তা করা। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় স্লিপে একসঙ্গেই থাকি, তাই ম্যাচে কীভাবে প্রভাব ফেলা যায়, সেটা নিয়ে সব সময়ই আলোচনা করি। আমার বিশ্বাস, ইসিবি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।’
ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর আইপিএল, পাকিস্তান সুপার লিগসহ বিভিন্ন লিগে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রুক। শুধু দ্য হান্ড্রেডে খেলছেন। এর ফলে বোঝা যায় ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ব্রুক।
তিনি বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ইংল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্য হান্ড্রেড ছাড়া আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে চাই না। আমার লক্ষ্য একটাই, যতটা সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা। মাঠে ও মাঠের বাইরে যা কিছু করি, সবই ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। সে কারণেই আইপিএল, পিএসএল কিংবা অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় খেলি না।’