নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে চলমান ম্যাচের চতুর্থ দিনের সকালে সতীর্থদের ড্রেসিংরুমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান স্টোকস। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও ধারণা ছিল, অন্তত আগামী বছরের অ্যাশেজ পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি। তবে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার পথই বেছে নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচ শেষে বিবিসির বিশেষ ক্রিকেট অনুষ্ঠানে স্টোকসের সঙ্গে সেই কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন ম্যাককালাম। তিনি বলেন, 'প্রথমে ও যখন আমাকে সিদ্ধান্তের কথা জানায়, তখন আমি তাকে থামানোর চেষ্টা করি। বলি, ‘একটু ধীরে, আরেকবার ভেবে দেখো।’ কিন্তু ও জানিয়ে দেয়, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এরপর প্রায় দশ সেকেন্ড আমরা কেউই কোনো কথা বলিনি।'
এরপর নিজের অনুভূতির কথাও জানান ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ। ম্যাককালামের ভাষায়, 'আমি ওকে বলেছিলাম, আমার খুব খারাপ লাগছে। ও বলল, সে নিজের সিদ্ধান্তে খুশি এবং সবকিছু নিয়েই সন্তুষ্ট। তখনই বুঝতে পারি, সময়টা ওর কাছে ঠিক বলেই মনে হয়েছে। আগে থেকে কিছুটা ধারণা ছিল, এমন দিন আসতে পারে। তবে ঠিক কখন, তা জানতাম না।'
ম্যাককালাম জানান, স্টোকস নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন। তাই তাকে ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না। তিনি বলেন, 'ও মনস্থির করেই এসেছিল। বুঝতে পারার পর আমার সত্যিই খারাপ লেগেছে। কারণ গত চার বছরে আমরা খুব কাছ থেকে একসঙ্গে কাজ করেছি এবং অনেক পথ পেরিয়েছি।'
স্টোকসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও উল্লেখ করেন ম্যাককালাম। তার ভাষায়, 'ওর সঙ্গে কাজ করাটা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি ওকে একজন ভালো বন্ধু মনে করি। ভবিষ্যতের জন্য ওর প্রতি আমার শুভকামনা রইল।'
স্টোকসের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন ম্যাককালাম। তিনি জানান, ইংল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ বা দায়বদ্ধতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার বিশ্বাস, এই দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।