‘পাকিস্তান ক্রিকেট এখন হাসির পাত্র হয়ে গেছে’

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
ছবি: তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ছবি: তানভির হোসেন/ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা একেবারেই ভালো যায়নি পাকিস্তানের। সুপার এইটে উঠলেও পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি শাহীন আফ্রিদি-বাবর আজমরা। বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১১ বছর পর বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ হার। যদিও বাংলাদেশ সফরের আগে সাউথ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। তবে শাহীন আফ্রিদিদের বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। কামরান আকমল মনে করেন, পাকিস্তানের ক্রিকেট এখন হাসির পাত্র হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ রানার পেস আগুনে পুড়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। রান তাড়ায় ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের রীতিমতো উড়িয়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান শাহীন আফ্রিদিরা। মাজ সাদাকাতের মারকুটে ব্যাটিংয়ের সঙ্গে হারিস রউফদের বোলিংয়ে বড় জয় পায় তারা।

সিরিজে সমতায় ফিরলেও জিততে পারেনি পাকিস্তান। সালমানের সেঞ্চুরিতে সুযোগ তৈরি হলেও শেষের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। মিরপুরে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে সফরকারীদের ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এমন হারের পর পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করেছেন কামরান। সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার মনে করেন, পাকিস্তান ভেবেছিল যে কাউকে নামিয়ে দিলেই জিতে যাবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ম্যাচের পর এক ইউটিউব চ্যানেলে কামরান বলেন, ‘পাকিস্তান ম্যানেজমেন্ট আসলে কী ভেবেছে জানেন? দ্বিতীয় ম্যাচে যখন বাংলাদেশকে ১১৪ রানে অল আউট করে কামব্যাক করল তখন তারা ক্রিকেটকে খুব হালকাভাবে নিয়েছে। তারা ভেবেছে যে কাউকে নামিয়ে দিলেই জিতে যাবে।’

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারলেও বাকি দুই ম্যাচেই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে নাহিদের আগুনে বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে সামর্থ্য দেখিয়েছেন তানজিদ। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি এসেছে তানজিদের ব্যাট থেকে। বোলিংয়ে কাজটা করেছেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানরা। কামরান মনে করেন, লাহোরে খেলা হলেও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ।

দেশটির সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে এটা ঢাকা। এটা লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম নয় যে আপনি যা ইচ্ছে করবেন আর জিতে যাবেন। বাংলাদেশের এই দলটা যদি লাহোরেও আসে তবুও তারা পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারাবে।’

সবশেষ কয়েক বছরেই প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে পারছে না পাকিস্তান। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর বলার মতো কিছু করতে পেরেছে কেবল ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ফাইনালে উঠলেও ইংল্যান্ডের কাছে শিরোপা খুইয়েছিলেন বাবর-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। এসবের বাইরে গত কয়েকটি বিশ্বকাপেই দেশের সমর্থকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। এমনকি অনেক দ্বিতীয় সারির দলের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হেরেছে তারা।

মাঠের বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে মাঠের বাইরের ঘটনাও বড় প্রভাব ফেলছে। বাবর-রিজওয়ানদের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের দুরত্বও স্পষ্ট। সবমিলিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই একটা অস্থির সময় পার করছে পাকিস্তান। কামরান মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে পাকিস্তানের ক্রিকেটের ভবিষ্যত অন্ধকার।

কামরান বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট এখন হাসির পাত্র হয়ে গেছে। নেদারল্যান্ডসও এখন ভাবছে পাকিস্তানের সাথে ৩ ম্যাচের সিরিজ খেলে টেস্ট স্ট্যাটাস মজবুত করবে। দল নির্বাচনে কোনো মেধা নেই, শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’

আরো পড়ুন: