বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরিতেও হারল ইংল্যান্ড, ফাইনালে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অভিষেক শর্মা ফিরলেও ওয়াংখেড়েতে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামালেন সাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিশান। তাদের দুজনের আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে বড় ‍পুঁজির ভিত পায়। হাফ সেঞ্চুরির আগে ইশান ফিরলেও স্যামসন ছিলেন অবিচল। তবে সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি ৮৯ রানের ইনিংস খেলা স্যামসনের। শিভাম দুবে, তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটে ২৫৩ রানের পুঁজি পায় ভারত। জবাবের জ্যাকব বেথেলের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে থেকেও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। সাত উইকেটে ২৪৬ রানে থামে তাদের ইনিংস। ভারত ম্যাচটি জিতে সাত রানের ব্যবধানে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে হলে ২৫৪ রান করতে হতো ইংল্যান্ডকে। ২০১৬ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রান তাড়া করে জিতেছিল ইংলিশরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সেই রেকর্ডই ভাঙতে হতো তাদের। যদিও বেথেলের সঙ্গে উইল জ্যাকস, টম ব্যান্টন, এমনকি শেষে জফরা আর্চাররা হাত চালালেও জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। স্নায়ুর চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ভারত। বেথেল করেন ৪৮ বলে আটটি চার ও সাতটি ছক্কায় ১০৫ রান।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে'তে তিন উইকেটে ৬৮ রান তোলে ইংল্যান্ড। হার্দিক পান্ডিয়াকে ডাউন দ্যা গ্রাউন্ডে সীমানাছাড়া করতে গিয়ে কাভারে ধরা পড়েন ফিল সল্ট (৫)। হ্যারি ব্রুকও সফল হননি। হার্দিকের মত নিজের প্রথম বলে উইকেট নেন জসপ্রিত বুমরাহও। তার স্লোয়ার সজোরে হাঁকান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। পয়েন্ট থেকে দৌড়ে গিয়ে অসাধারণ একটি ক্যাচ লুফে নেন অক্ষর প্যাটেল। পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে জস বাটলারকে বোল্ড করেন বরুণ চক্রবর্তী। ১৭ বলে ২৫ রান আসে তার ব্যাটে।

তারপর দ্রুতগতিতে ৩১ রানের জুটি গড়েন জ্যাকব বেথেল এবং টম ব্যান্টন। ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন বেথেল। ৫ বলে ১৭ রান করা ব্যান্টনকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন অক্ষর। এরপর বেথেলের ঝড়ে সঙ্গ দেন উইল জ্যাকস। ২০ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে আরো এগিয়ে নেন তিনি। এই জুটিতে ৩৯ বলে ৭৭ রান পায় ইংল্যান্ড। এই জুটি ভাঙেন আর্শদীপ সিং। তার ওয়াইড লেংথের লোয়ার ফুল টস ডিপ কাভারে হাঁকান জ্যাকস, দৌড়ে এসে এক হাতে ক্যাচ নিয়ে টাল সামলাতে না পেরে সেটিকে দুবের দিকে ছুঁড়ে দেন অক্ষর। দারুণ ক্যাচে জ্যাকসকে বিদায় করেন দুবে।

জ্যাকসের বিদায়ের পর স্যাম কারানকে নিয়ে ২৭ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন বেথেল। ১৪ বলে ১৮ রান করা কারানকে বিদায় করে এই জুটি ভাঙেন হার্দিক। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ছয় বলে ৩০ রান। আগের ওভারে সেঞ্চুরি পাওয়া বেথেল এই ওভারের প্রথম বলেই হার্দিকের থ্রো'তে রান আউট হন। দুবের এই ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমান জফরা আর্চার।

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন স্যামসন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই জফরা আর্চারকে ছক্কা ও চার মারলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারাতে হয় তাদের। জ্যাকসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে সল্টকে ক্যাচ দিয়েছেন ১০ রান করা অভিষেক শর্মা। ফিরতে পারতেন স্যামসনও। তৃতীয় ওভারে আর্চারে বলে মিড অনে ব্রুককে ক্যাচ দিয়েছিলেন ডানহাতি ওপেনার। তবে সেটা লুফে নিতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক।

জীবন পেয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিশানকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালান স্যামসন। পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৭ রান তোলে ভারত। লিয়াম ডওসনকে ছক্কা মেরে ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ডানহাতি ওপেনার। স্যামসনের মতো পাল্লা দিয়ে দ্রুত রান তুলেছেন ইশানও। তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন আদিল রশিদ। ডানহাতি লেগ স্পিনারের বলে লং অফের উপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় জ্যাকসকে ক্যাচ দিয়েছেন। ৩৯ রান করা ইশানের বিদায়ে ভাঙে স্যামসনের সঙ্গে ৯৭ রানের জুটি।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে পারেননি স্যামসন। ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। জ্যাকসের বলে ডিপ এক্সট্রা কভারে সল্টকে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে। সুবিধা করতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব। ভারতের অধিনায়ক ফেরেন ৬ বলে ১১ রান করে। ভুল বোঝাবুঝিতে কপাল পুড়েছে শিভাম দুবের।

ব্যাট হাতে ঝড় তোলা দুবে ২৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে রান আউট হয়েছেন ব্রুকের সরাসরি থ্রোতে। তবুও রান তোলার গতি থামায়নি ভারত। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ বলে ২১ রান করে তিলক ভার্মা ফেরেন আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে। হার্দিক শেষ পর্যন্ত ১২ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতের ২৫৩ রানের পুঁজির দিনে ইংল্যান্ডের হয়ে দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন রশিদ ও জ্যাকস।

আরো পড়ুন: