ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে তাদের হাতে আসা আইসিসির নথি অনুযায়ী, সংস্থাটির দুর্নীতি দমন ইউনিট জানিয়েছে যে, বিভিন্ন সদস্য দেশের লিগ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দুর্নীতিবাজদের অনুপ্রবেশের ক্রমবর্ধমান প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সমন্বয় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকর উপায় খুঁজতে একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনা করছে আইসিসি।
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় চলমান আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতির ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি নতুন কৌশল নিয়েও আলোচনা করার কথা রয়েছে আইসিসির নির্বাহী কমিটির।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কোন কোন ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইসিসির অনুমোদনের আওতায় আসবে, সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা। এর ফলে বর্তমানে যে সংখ্যক টুর্নামেন্ট আইসিসির অনুমোদন ছাড়াই আয়োজন করা যায়, ভবিষ্যতে তার অনেকগুলোকেই অনুমোদন নিতে হতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য নয় এমন কোনো দেশের ঘরোয়া লিগে গত ২৪ মাসের মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে খেলা চারজনের বেশি ক্রিকেটার অংশ নিলে তবেই আইসিসির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া কোনো লিগে সততা বা দুর্নীতি-সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিলে এবং আয়োজকরা তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে, সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে আইসিসি।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবৈধ জুয়া বা বেটিংয়ের প্রসার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষ করে কিছু প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর সঙ্গে অবৈধ বেটিংয়ের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে তারা। আইসিসির মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি আয়োজক বোর্ডগুলোকে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ বেটিং কার্যক্রমে সহায়তা করার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটে দুর্নীতির সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।