আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে এ দিন টপ অর্ডারের দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের পথেই ছিলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৫তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা ডেভিডের ঝড়ো ইনিংস সেই দলীয় সংগ্রহকে প্রতিপক্ষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যায়। ১৫ ওভারের পর ব্যাটিংয়ে নামা কোনো ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ (৭০ রান) করেন ডেভিড।
ইনিংসের ১৭ থেকে ২০ এই চার ওভারেই সর্বোচ্চ ৬৮ রান তোলেন ডেভিড, যা আইপিএলের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। এমন রেকর্ডময় ইনিংসে ১৯তম ওভারের সেই ছক্কাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। অনুশীলনে মাঠের বাইরে বল পাঠানো নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করেন বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটাররা। তখন মাঠের পাশের অনুশীলন উইকেটগুলোতে এই প্রতিযোগিতা করায় সেই কাজ সহজ ছিলো তাদের জন্য।
এবার মাঠের ঠিক মাঝে সেন্টার উইকেট থেকে মূল ম্যাচে এমন ছক্কা মারতে পেরে সন্তুষ্টির কথা জানান ডেভিড। তিনি বলেন, 'আমরা প্রতিযোগিতা করে থাকি (অনুশীলনে) ছাদের ওপর বল পাঠাতে। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই আসলেই সন্তুষ্টির।'
১৯তম ওভারে রীতিমতো তান্ডব চালান ডেভিড, তোলেন ৩০ রান। সেই ওভারে বল করা ওভারটনের বাড়তি গতি তাকে বেশ সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি, 'জেমি তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। এটাও সহায়তা করেছে বল ছাদের ওপরে পাঠানো। বেশ মজা পেয়েছি।'
এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কৃতিত্ব ডেভিড দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর সহকারী কোচ দিনেশ কার্তিককে। ডেভিডের আগে একসময় বেঙ্গালুরুর হয়ে এই ঝড় তোলার দায়িত্বে ছিলেন কার্তিক। সেই অভিজ্ঞতা কার্তিক ছড়িয়ে দিচ্ছেন ডেভিডদের মাঝে। আর এ বিষয়টিই বেশ কাজে দিয়েছে ডেভিডের জন্য।
ডেভিড বলেন, 'ডিকে'র (দিনেশ কার্তিক) সাথে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। এই পরিস্থিতিতে নিঃসন্দেহে তিনি অনেক অভিজ্ঞ। আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছি। তবে মৌলিক বিষয়গুলো ধরে রাখতেই গয়, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে শক্তিটা গড়ে ওঠে এবং তারপর সেগুলোকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে হয়।'
ডেভিড আরো যোগ করেন, 'বেশ কবছর ধরেই তো আইপিএলে আছি। সেই প্রস্তুতি এবং যেুটুকু সময় মেলে, ভালো খেলার জন্য নিজের ওপর ততটা চাপ দেই না। চেষ্টা করি, ভালো দিনগুলোতে খেলাটা উপভোগ করতে। অবশ্যই কিছু খারাপ দিনও আসবে, খেলাটাই এমন।'