এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক শান্ত। শুরুতে দুই ওপেনার মিলে গড়েন ১২৪ রানের জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মাত্র ৪১ বলে তানজিদ তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ বলে ৮৩ রান করে ইসমাত আলমের বলে উইকেটকিপার ইকরাম আলীখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
ধীরস্থীর ব্যাটিং করে অন্যপ্রান্তেও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান। তিনি পঞ্চাশ ছুঁতে খেলেছেন ৯৪ বল। তিনি আউট হয়েছেন ১১১ বলে ৬৭ রান করে। মোহাম্মদ সালিম সাফির শর্ট বল সামলাতে গিয়ে স্কয়ার লিগে জিয়াউর রহমানের দুর্নান্ত ক্যাচে আউট হয়ে ফেরেন ৭ চারের ইনিংস সাজানো সাদমান।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও বেশ ভালোই সামাল দিচ্ছিলেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ২০০ রান পূরণের পরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। হাফ সেঞ্চুরির আগেই ৭০ বলে ৩৯ রান করে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। এরপর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর রহিম।
ইয়ামিনের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই আউট হয়েছেন তিনি। অধিনায়ক শান্ত আউট হয়েছেন কাইস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। তার ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ২৯ রান। ফলে ৪ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারানোর দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা হয় বাংলাদেশের।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের বিপর্যয় সামাল দেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তৃতীয় সেশনের শুরু থেকে দেখেশুনে ব্যাটিং করে দুজন মিলে দলের সংগ্রহ আড়াই শ পার করান। তবে ব্যক্তিগত ২৪ রানে মিরাজ ফিরলে ভাঙে তাঁদের পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি। ইসমাত আলমের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন মিরাজ।
এরপর ব্যাট হাতে নিজের ফিফটি তুলে নেন লিটন। ৭৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ইয়ামিন আহমদজাইকে চার মেরে ৮৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তার ফিফটিতে তিন শ রানও ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। আগের তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হওয়া লিটন এবার রানের দেখা পেয়েই তুলে নিলেন অর্ধশতক। তবে ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন।
পরের ওভারেই সালিম সাফিকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরির তালিকায় হাবিবুল বাশারকে ছুঁয়েছেন লিটন। দুজনেরই হাফ সেঞ্চুরি এখন ২৭টি। এই তালিকায় সবার ওপরে মুশফিকুর রহিম, তার হাফ সেঞ্চুরি ৪৩টি। মুমিনুল হক ও তামিম ইকবালের ৪১টি করে, সাকিব আল হাসানের ৩৬টি। শেষ বিকেলে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রান করে দিনের খেলা শেষ করেন।