অঙ্কনের লড়াকু ইনিংসের পরও বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের সাউথ আফ্রিকা সফর
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পচেফস্ট্রুমে সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ম্যাচের তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের জন্য গেল কঠিন এক পরীক্ষায়। দিনের শুরুতে তিন উইকেটে ১৪৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ইমার্জিং দল প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৩৯ রানে। দলের হয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তবে তার ৯৭ রানের ইনিংসও ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।

বাংলাদেশকে ২৩৯ রানে থামিয়ে ২৮০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। স্বাগতিকরা ২৮.১ ওভারে চার উইকেটে ১৩০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এর আগে প্রথম ইনিংসেও পাঁচ উইকেটে ৫১৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল তারা। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই ছিল সাউথ আফ্রিকার হাতে।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে অঙ্কনের সঙ্গে আগের দিনের ৮১ রানের জুটি এগিয়ে নেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। দুজন মিলে জুটিটিকে শতরানের ঘরে নিয়ে যান। ১১১ বলে ৫০ রান করে ইফতি আউট হলে ভাঙে ১০২ রানের জুটি। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আর বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি।

শেষ সাত উইকেট হারাতে বাংলাদেশ করেছে মাত্র ৭৩ রান। এক প্রান্তে অঙ্কন অবশ্য লড়াই চালিয়ে গেছেন অবিচলভাবে। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২২৪ বল মোকাবিলা করে ৯৭ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। মাত্র তিন রানের জন্য শতক না পেলেও দলের ইনিংসকে টেনে নেওয়ার কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন তিনি।

সাউথ আফ্রিকার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ইয়ানকো স্মিট ও শালক এনগেলব্রেখট। দুজনই শিকার করেন তিনটি করে উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পর বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে স্বাগতিকরা। সপ্তম ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। আগের ইনিংসে শতক করা লিথেকো মদিরিকে ফিরিয়ে দেন ইকবাল হোসেন ইমন।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মুহাম্মদ মানাক ও ড্যানিয়েল স্মিথ গড়েন ৯৫ রানের জুটি। এনামুল হকের বলে ৫৩ বলে আটটি চারে ৬০ রান করে স্মিথ আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। মানাক অপরাজিত থাকেন ৭৮ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৪৮ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেটই নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন।

দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত কিছু রান তুলে বাংলাদেশকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পথ বেছে নেয় সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দল। সুযোগ থাকলেও তারা বাংলাদেশকে ফলো-অন করায়নি। ৪১১ রানের লক্ষ্য নিয়ে দিনের শেষ পাঁচ ওভার ব্যাটিং করে বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১৫ রান। শাহাদাত হোসেন দিপু ৯ ও জাকির হাসান ৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।

শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৩৯৬ রান। ম্যাচের পরিস্থিতিতে এত বড় লক্ষ্য পেরিয়ে জয় পাওয়া কঠিন। তাই জয় নয়, পুরো দিন উইকেট ধরে রেখে ৯০ ওভার পার করাই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুন: