প্রথম দিনে অজিদের ১৯৮ রানে অলআউট করে ১ উইকেটে ৯৬ রান করে শক্ত অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে সেই শক্ত ভিতকে আরো মজবুত করার কাজ করেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করলেও তানজিদ ও মুমিনুল হক বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি সামলেছেন। তানজিদের মতে, প্রথম সেশনটা ভালোভাবে পার করাই ছিল তাদের অন্যতম পরিকল্পনা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তানজিদ বলেন, 'খুব ভালো একটা দিন পার করছি আমরা। আমাদের পরিকল্পনা এটাই ছিল যে প্রথম সেশনটা কীভাবে আমরা কাটাতে পারি। ওরাও অনেক ভালো বোলিং করছে, তো আমাদেরও চেষ্টা ছিল যে আমরা অতিরিক্ত কিছু করব না।'
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে পুরো ইনিংসেই ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন তানজিদ। সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে সফল হওয়া তানজিদ এদিন খেলেছেন রয়েসয়ে। তার সেঞ্চুরির পাশাপাশি শেষ দিকে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিংও বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দিয়েছে। তানজিদ মনে করেন, যত বেশি সময় ব্যাটিং করা যাবে, ততই ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হবে।
তানজিদ বলেন, 'আমি যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি উইকেটটা খুব ভালো ছিল। এখন শেষে যেরকম আপনার হাসান এবং মিরাজ ভাই ব্যাটিং করতেছে, দেখে ভালোই মনে হয়েছে। কিন্তু ওরা অনেক টাইট লাইনে বল করতেছে। আমাদের কাছে মনে হয় যে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা বেশি ব্যাটিং করতে পারব, ততক্ষণ আমাদের দলের জন্য ভালো।'
টেস্টের এখনো তিন দিন বাকি থাকায় বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করে যতটা সম্ভব বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো। তৃতীয় দিনে তাই স্কোরবোর্ডে রান যত বাড়ানো যাবে, পরের ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের কাজ তত সহজ হবে, এমনটাই মনে করেন এই ওপেনার।
তৃতীয় দিনের পরিকল্পনা নিয়ে তানজিদ বলেন, 'যেহেতু আমাদের হাতে এখনো তিন দিন অনেক লম্বা সময় আছে, আমরা চাইব যত বেশি সেশন ব্যাটিং করা যায় তত আমাদের জন্য ভালো। যত বেশি রান দেওয়া যায়, তত আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হবে।'
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই এমন ব্যাটিংয়ের পেছনে টিম ম্যানেজমেন্টকেও কৃতিত্ব দিতে চান তানজিদ। টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার পর কোচিং স্টাফ ও দলের পক্ষ থেকে তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ওয়ানডেতে যেভাবে ব্যাটিং করেন, একই মানসিকতা নিয়ে টেস্টেও খেলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে তানজিদ বলেন, 'আসলে তেমন কিছু না। আমাকে যখন টেস্ট দলে নেওয়া হয়, তখন আমাকে আমার বার্তাটা পরিষ্কার করে দিয়েছিল যে আমি কীভাবে খেলব। আমার কাছে মনে হয় যে আমি যেভাবে সাধারণত ওয়ানডেতে যেভাবে ব্যাটিং করি, আমি শুধু একই মানসিকতা নিয়ে এখানে আসছি এবং একই মানসিকতা নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি।'
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ তানজিদকে সহজে রান করার সুযোগ দেয়নি। দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশনে মাত্র দুই উইকেট তুললেও পুরো সময়টায় নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজেলউডরা। তাই আক্রমণাত্মক হওয়ার চেয়ে দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল তানজিদের।
এ প্রসঙ্গে তানজিদ বলেন, 'যেহেতু তারা আমাকে কোনো বাজে বল করে নাই কিংবা অতটা সুযোগ দেয় নাই, অনেক টাইট লাইনে বল করছে, তো আমি চেষ্টা করেছি যে যত বেশিক্ষণ ধৈর্য নিয়ে খেলা যায়, ধৈর্য ধরে খেলা যায়। তো এটাই চেষ্টা করেছি শুধু।'