তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্তর ফিফটিতে বড় লিড নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ সিরিজ
তানজিদ হাসান তামিম, ফাইল ফটো
তানজিদ হাসান তামিম, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি এবং নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরিতে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনও নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, নাথান লায়নদের চোখে চোখ রেখে ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অল আউট হওয়া অজিদের বিপক্ষে বর্তমানে টাইগারদের লিড ১৫৩ রানের।

সকালটা বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শুরু করেন মুমিনুল হক এবং তানজিদ। বাংলাদেশকে শতরানে পৌঁছে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। এরমধ্যে হাফ সেঞ্চুরিও হাঁকান তানজিদ। সুযোগ ছিল মুমিনুলেরও। কিন্তু জুটির শতরান পূরণ হতেই হ্যাজেলউডের গুড লেংথের ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল।

৯৫ বলে ৪৯ রান করে ফিরতে হয় তাকে। তার বিদায়ে ১৮৯ বল স্থায়ী ১০২ রানের জুটিটি ভাঙে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যেকোনো উইকেটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এরপর রান বাড়াতে থাকেন তানজিদ-শান্ত। কামিন্সকে পয়েন্টে চার হাঁকিয়ে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ দেড়শ ছাড়িয়ে নেন তানজিদ।

৭৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান শান্ত। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেলস নিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। একই ওভারে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদও। ১৮৮তম বলে লং অফে সিঙ্গেলস নিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটাই প্রথম সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরির পর বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদ। দলীয় ২৩১ রানে বিদায় নেন তিনি। নাথান লায়নের টসড আপ ডেলিভারিটি সামনে এগিয়ে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বল বেশ উঁচুতে তুলে দেন তানজিদ। লং অফ থেকে বায়ে সরে এসে দারুণ একটি ক্যাচ লুফে নেন স্টার্ক। তার ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কার মার। যাওয়ার আগে শান্তর সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

প্রথম দুই সেশনে একটি করে উইকেট হারালেও তৃতীয় সেশনে খেই হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়বার নতুন বল নেয়া হলে ১১ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায় টাইগাররা। ১২৬ বলে ৮৪ রান করা শান্তকে হ্যাজেলউড, ৫৫ বলে ৩৬ রান করা মুশফিকুর রহিমকে প্যাট কামিন্স এবং ১২ বলে শূন্য রান করা লিটন দাসকে স্টার্ক ফিরিয়ে দেন। কাকতালীয়ভাবে এই তিনটি ক্যাচই ওঠে দ্বিতীয় স্লিপে, লুফে নেন স্টিভ স্মিথ। তিনটি ক্যাচ লুফে নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ২১৮তম ক্যাচ পূরণ করেন তিনি।

শেষ সেশনে যখনই অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা বাংলাদেশের উপর দাপট দেখানো শুরু করে তখনই তাতে লাগাম দেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদ। এই দুজনের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ দলের লিড ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে। দুজনে মিলে প্রায় ১৫০ বল খেলেন। মিরাজ ৭৩ বলে করেন অপরাজিত ৩২ রান। হাসান ৭৬ বলে করেন অপরাজিত ১৩ রান। নিয়মিত বোলারদের পাশাপাশি মার্নাস ল্যাবুশেন, ট্রাভিস হেডদের হাতে বল তুলে দিয়েও বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

আরো পড়ুন: