দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং গুটিয়ে যায় মাত্র ৫৪ রানে। প্রস্তুতি ম্যাচ হওয়ায় ফলাফলকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিলেও এমন ব্যাটিং ধস আলাদা করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে আটজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে খেলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় টেস্ট সিরিজের আগে উদ্বেগ বেড়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থমসন। আগের দিন শেষ বিকেলে দুটি উইকেট নেয়ার পর তৃতীয় দিনে আরও ছয়টি উইকেট তুলে নেন তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ২৫ রান খরচ করে আট উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করে দেন ২২ বছর বয়সী এই পেসার।
থমসনের অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ম্যাচসংখ্যা মাত্র একটি। চোট কাটিয়ে ফিরে এই ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এমন একজন প্রায় অনভিজ্ঞ পেসারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ তাই টেস্টের আগে ভাবনার যথেষ্ট কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগের দিন থমসনের শিকার হয়েছিলেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। তৃতীয় দিনের শুরুতে সৌম্য সরকারকে চারে নামানো হলেও ছয় রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট চালিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর মুশফিকুর রহিমও ফেরেন মাত্র দুই রানে।
থমসনের পরের শিকার হন তানজিদ হাসান তামিমও। দুই চার ও এক ছক্কায় ২২ রান করা এই ওপেনার অন সাইডে খেলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে এলবিডব্লিউ হন। অধিনায়ক শান্তও বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। অন্যদিকে কোরি রকিচ্চলি চার ওভার বল করেই অমিত হাসান ও প্রথম ইনিংসে শতক পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে দেন।
শেষদিকে টানা দুই বলে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন থমসন। শেষ পাঁচ উইকেটের পতন ঘটে মাত্র নয় রানের মধ্যে। তানজিদ ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান সাত রানও করতে পারেননি; অতিরিক্ত রানসহ বাকি সবাই মিলে করেন ৩২ রান।