বাংলাদেশকে দিয়ে ব্যস্ত টেস্ট সূচির শুরু, প্রস্তুত হ্যাজলউড

বাংলাদেশ ক্রিকেট
জশ হ্যাজেলউড, ফাইল ফটো
জশ হ্যাজেলউড, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত এক টেস্ট মৌসুম। আগামী এক বছরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই দীর্ঘ সফরের শুরুতেই দলে ফিরতে মুখিয়ে আছেন অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড।

৩৫ বছর বয়সী হ্যাজলউড সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোটে পুরো অ্যাশেজ সিরিজ মিস করার পর দীর্ঘ এক বছর টেস্টের বাইরে ছিলেন তিনি। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়েই তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ হবে না। নাথান লায়নের দলে ফেরার কারণে স্পিনার খেলানো প্রায় নিশ্চিত। ফলে পেস আক্রমণে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও একজন স্পিনারের সঙ্গে তৃতীয় পেসার হিসেবে লড়াইটা হতে পারে হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ডের মধ্যে।

তবে বোল্যান্ডকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, সতীর্থ হিসেবেই বেশি ম্যাচ খেলতে চান হ্যাজলউড। তিনি বলেন, ‘আমি স্কটির সঙ্গে আরও বেশি টেস্ট খেলতে চাই। আমাদের বোলিংয়ে কিছু মিল থাকলেও অনেক পার্থক্যও আছে। সে যখনই সুযোগ পেয়েছে, দারুণ পারফর্ম করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর ক্যারিয়ার আরও ভালো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে আমাদের সামনে অনেক টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। আশা করি আমরা একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলতে পারব। শুধু আমরা চারজনই নই, মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেটও আছে। আমার মনে হয় এই সময়ের মধ্যে ছয়জন পেসারকেই কোনো না কোনো সময় প্রয়োজন হবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইনজুরির কারণে বড় সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে হ্যাজলউডকে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ ১৪ টেস্টের মধ্যে খেলেছেন মাত্র ছয়টি। তবু ২৪.২১ গড়ে ২৯৫ উইকেট নেওয়া এই পেসার এখনও দলের অন্যতম ভরসা। আর মাত্র পাঁচ উইকেট পেলেই টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।

ইনজুরি এড়াতে এবার ভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন হ্যাজলউড। আইপিএলের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফরের সীমিত ওভারের সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। এই সময়টায় ম্যাচ না খেলে শুধুই টেস্টকে সামনে রেখে অনুশীলন করেছেন তিনি।

হ্যাজলউড বলেন, ‘অনেক দিন পর এমন প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছি, যেখানে কোনো ম্যাচ খেলতে হয়নি। বড় বড় বোলিং সেশন করেছি, টানা দুই দিন বল করেছি। টেস্ট ম্যাচের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এতে ভালো ফল পাওয়ার আশা করছি।’

তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পরের পরিকল্পনা নিয়ে এখনই ভাবতে চান না এই ডানহাতি পেসার। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলায় অনেক দূরের কথা ভাবলে সেটা উল্টো বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আমি ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। আপাতত লক্ষ্য শুধু ডারউইন টেস্ট।’

যদিও সামনে অপেক্ষা করছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের মতো বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যও প্রেরণা জোগাচ্ছে হ্যাজলউডকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই দলটা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ডে সিরিজ জেতা এখনও বাকি। শুধু আমার নয়, পুরো দলের জন্যই এগুলো বড় লক্ষ্য। সেই ভাবনাটাই প্রস্তুতির সময় আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।’

আরো পড়ুন: