টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পার হলেও দেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো এক্সিলেন্স সেন্টার গড়ে ওঠেনি। মিরপুরে একাডেমি ভবন থাকলেও সেটি মূলত আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আগের বোর্ড পূর্বাচলে ক্রিকেট কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নিলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মানের একটি এক্সিলেন্স সেন্টার গড়ে তোলার কথা বলে আসছিলেন তামিম।
পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বুধবার তামিম বলেন, 'আজকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটা আমি মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, তা হলো আমরা এক্সিলেন্স সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা আজকে এটার অনুমোদন পেয়েছি এবং খুব দ্রুতই কাজ শুরু করে দেব।'
পূর্বাচলের ক্রিকেট কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির দায়িত্ব আগেই অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল। সেই নকশার ভিত্তিতেই নতুন করে কাজ এগোবে, তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। তামিমের মতে, আগের পরিকল্পনা তার কল্পিত এক্সিলেন্স সেন্টারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই নতুনভাবে নকশা প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমরা যে এক্সিলেন্স সেন্টারের স্বপ্ন দেখি, আগের নকশাটি সেটার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছিল না। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে নকশা করতে বলা হয়েছে। নকশা পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তবে বোর্ড একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অর্থ ব্যবহার করেই আমরা এই এক্সিলেন্স সেন্টার সম্পন্ন করব।'
তামিম জানান, নকশা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেও সরাসরি যুক্ত থাকবেন। তার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক মানের এই এক্সিলেন্স সেন্টার ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তোলাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান বোর্ড।
এদিকে বোর্ডের পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম জানিয়েছেন, নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। তাদের আশা, আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পূর্বাচলে জাতীয় ক্রিকেট মাঠ নির্মাণের বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০৩১ সালের পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে ওই মাঠ নির্মাণকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন তামিম।