২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১০ ওয়ানডেতে ২৭ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ। ২ টেস্টে নিয়েছেন ১১ উইকেট। সাম্প্রতিক ফর্ম কিংবা ইমপ্যাক্ট বিবেচনায় এই মূহুর্তে বাংলাদেশ দলের সেরা অস্ত্র নাহিদ। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি আর গতিময় উইকেটে ব্যবধান গড়ে দেবার সব সামর্থই ছিল এই পেসারের। তাই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নামার আগে নাহিদকে হারানো যে বাংলাদেশের জন্য বড় এক ধাক্কা তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বাশার বলেন, 'বিশ্ব ক্রিকেটে যদি দেখেন,নাহিদের সঙ্গে সবার কিন্তু একটা ব্যবধান আছে। নাহিদ আর মিচেল স্টার্ক, যারা সবসময় খুব গতিতে বল করে থাকেন। ওকে মিস করা অবশ্যই আমাদের জন্য খুব, অবশ্যই অনেক কঠিন।'
নাহিদকে এই সিরিজে না পাওয়াটা বাংলাদেশের বিরাট ক্ষতি উল্লেখ করে বাশার বলেন, 'আমার মনে হয় বিশ্ব ক্রিকেটের সবাই আসলে নাহিদের বোলিং দেখতে আশা করে। কিন্তু এটা আমাদের মানতে হবে, নাহিদ রানা সব ম্যাচ খেলতে পারবে না। আপনি যতই বলেন না কেন, মেনে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। কিন্তু নাহিদ না থাকাটা অনেক বড় ধাক্কা।’
নাহিদের পাশাপাশি ডারউইনের প্রথম টেস্টে নিয়মিত একাদশের আরেক পেসার শরিফুল ইসলামকেও পাচ্ছে না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত একাদশের তিন পেসার নাহিদ, শরিফুল ও তাসকিন আহমেদকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিশ্রাম দেয়া হলেও তাদের দুইজনই ইনজুরিতে পড়েছেন সাদা বলের সিরিজ খেলার সময়।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজেও নাহিদ-শরিফুলকে সাদা বলের সিরিজেও বিশ্রাম দেয়া যেত কিনা সেই আলোচনাও হচ্ছে তাদের ইনজুরিতে পড়ার পর। কিন্তু নাহিদসহ বাকি পেসারদের ওয়ার্কলোড মাথায় রেখেই তাদের খেলানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাশার।
এ প্রসঙ্গে বাশার বলেন, 'নাহিদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট সবসময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কে কোন ম্যাচ খেলবে, কত ম্যাচ খেলবে, কোন সিরিজে খেলবে, সবকিছুই নজরে রাখা হয়। শুধু নাহিদ নয়, তাসকিন বলেন সব পেস বোলারের ক্ষেত্রেই এটা অনুসরণ করা হয়।'
বাশার আরো যোগ করেন, 'অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সে সব ম্যাচ খেলেনি। প্রথমে দুটি ওয়ানডে খেলেছে, এরপর এক সপ্তাহ বিরতি পেয়েছে, তারপর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওয়ার্কলোডের হিসাব অনুযায়ী সে টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারপরও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা তাকে টেস্ট খেলাইনি। একজন ফাস্ট বোলারকে যতই চেষ্টা করা হোক, পুরোপুরি চোটমুক্ত রাখা খুব কঠিন। ফাস্ট বোলারদের ইতিহাস দেখলেই সেটা বোঝা যায়। ঝুঁকি কমানো যায়, কিন্তু একেবারে দূর করা যায় না। তারপরও আমরা প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তি যত্ন নিচ্ছি। এরপরও কেউ চোট পেলে, সেটা অবশ্যই দুঃখজনক।'
কিন্তু পূর্ণ শক্তির দল না পেলেও সিরিজ নিয়ে আশাহত হতে রাজি নন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজে দারুণ কিছুই করবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল, এমনটাই প্রত্যাশা বাশারের।
বাশার বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া যদি আপনার দলটা দেখেন, ওরা আমাদের যেভাবে নিয়েছে, সেখানে ওর থাকা না থাকাটা অবশ্যই অনেক বড় বিষয়। কিন্তু আমি যেটা বললাম শুরুতেই, যখন আমি আমার সেরা খেলোয়াড়টাকে পাব না, আমি সেটা নিয়ে বসে থাকতে চাই না। আমরা যখন সিরিজে যাব, আমার হাতে যেটা আছে, আমি মনে করি আমার এটাই সেরা। এটা নিয়েই আমাদের চেষ্টা করতে হবে।'