নিজেদের ‘দুর্ভাগা’ দাবি করে জিম্বাবুয়ের পেসারদের প্রশংসায় আশরাফুল

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ব্লেসিং মুজারাবানির শর্ট ডেলিভারিতে পুল করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। বাঁহাতি ওপেনার বল যত দূরে পাঠাতে চেয়েছিলেন ঠিক তত দূর পাঠাতে পারেননি। সীমানার কাছে কাছে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন নিউম্যান নিয়ামুরি। দ্রুতই ফিরে যেতে হয় তাকে। আরেক টপ অর্ডার ব্যাটার সৌম্য সরকার উইকেট দিয়েছেন রিচার্ড এনগারাভাকে। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলার ‘লোভ’ সামলাতে পারেননি তিনি।

ছক্কার চেষ্টায় থার্ডম্যানে নিয়ামুরিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। তানজিদ ও সৌম্যর আউটের ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের খানিকটা দুর্ভাগা দাবি করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের দাবি, উইকেটে বাড়তি বাউন্স থাকায় ব্যাটাররা যেমন শট খেলতে চেয়েছিলেন সেটা করতে পারেননি। বেশিরভাগ শটই বল চলে গেছে ফিল্ডারের হাতে। পাশাপাশি দুই দেশের সীমানার দৈর্ঘ্যের বিষয়টিও সামনে এনেছেন।

এ প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘গত সাত মাস ধরে আমাদের হোম কন্ডিশনে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলছিল। জিম্বাবুয়েতে আমরা সবশেষ ২০২২ সালে সফর করেছিলাম, তখনও আমাদের ধুঁকতে হয়েছিল। এখন আবার টেস্টের দুই ইনিংস এবং প্রথম ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি। একটু দুর্ভাগা বলব আমি বিশেষ করে গত ওয়ানডে ম্যাচে যদি আপনারা খেয়াল করে থাকেন দ্রুতই যারা আউট হয়েছেন তারা একটু আনলাকি।’

‘যে শটসগুলো খেলেছেন সেগুলো সবই হাতে চলে গেছে। আমরা যখন বাংলাদেশে খেলি তখন বাউন্ডারি সাইজ থাকে ৬০-৬৫ কিন্তু এই জায়গার বাউন্ডারি ছিল প্রায় ৭৩-৭৫ মিটার। এই জায়গাতে হয়তবা আমরা মানিয়ে নিতে পারিনি। বাউন্স তো অবশ্যই একটু বাড়তি থাকে। যদিও গত সাত মাস ধরে আমরা বাংলাদেশে ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করেছি এবং ভালো খেলছিল।

সবশেষ কয়েক মাসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে দারুণ ক্রিকেট খেললেও দেশের বাইরে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হারতে হয়েছে ইনিংস ব্যবধানে। প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারী ব্যাটারদের অবস্থা তো আরও করুণ। ১৪১ রান তাড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল অল আউট হয়েছে মাত্র ১১৬ রানে।

এমন পারফরম্যান্সে হতাশ আশরাফুল নিজেও। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের বিশ্বাস, পরের ম্যাচগুলোতে তানজিদ-সৌম্যরা ঘুরে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত পরবর্তী দিই ম্যাচে আমাদের ব্যাটাররা ছন্দে চলে আসবে ইনশাআল্লাহ। যে ভুলগুলো তারা করেছে ওই জিনিসগুলো শুধরে নেবে পরের দুই ম্যাচে, এটাই আমার আশা। অবশ্যই, যে পারফরম্যান্স করেছি এইটা আমরা আশা করিনি। আমি নিশ্চিত পরবর্তী দুই ওয়ানডে এবং তিন টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ব্যাটাররা গত ৬ মাসে যেভাবে খেলে আসছে বাংলাদেশে সেই পারফরম্যান্সটা করবে।’

টেস্টে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। এনগারাভা, মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও নিয়ামুরির বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তরা দাঁড়াতে পারেননি প্রথম ওয়ানডেতেও। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার ফাঁকে জিম্বাবুয়ের পেসারদের প্রশংসা করতে ভুল করলেন না আশরাফুল। মুজারাবানি-এনগারাভারা খানিকটা লম্বা হওয়ায় বাড়তি বাউন্স পাওয়ার বিষয়টিও বলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে খেলাটা সহ জ নয়।

আশরাফুল বলেন, ‘আমি এই কন্ডিশনে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয় যে জিম্বাবুয়ের এখন যেই পেস বোলিং ইউনিটটা আছে খুবই চমৎকার পেস বোলিং ইউনিট। তাদের উচ্চতা খুব ভালো এবং উইকেট থেকে বাড়তি একটা বাউন্স পাচ্ছে। আমাদের ব্যাটারদের হয়তবা ওই জায়গাটা মিসিং। আমরা ওইটা নিয়ে কাজ করছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় যে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সবাই। কন্ডিশন এত সহজ না, এখানে ব্যাটিং করাটা আসলে এত সহজ না। আমি মনে করি যে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলাররা মানসম্পন্ন। চারটা ফাস্ট বোলারই খুব চমৎকার লাইন লেন্থে বল করছেন, এক্সট্রা একটা বাউন্স পাচ্ছেন তাদের উচ্চতার কারণে। অবশ্যই এখান থেকে আমরা কামব্যাক করব আমি বিশ্বাস করছি।’

আরো পড়ুন: