ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরোনো সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার ফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। জাতীয় দল ছাড়াও পাইপলাইনে আছেন দারুণ কিছু পেস বোলার। উইকেটের সহায়তা পাওয়ায় পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট ধীরে ধীরে শক্তিশালী হলেও ক্রমেই যেন দুর্বল হচ্ছে স্পিন বোলারদের পাইপলাইন। স্পিন সহায়ক উইকেটগুলোতে ব্যাটারদের ব্যর্থতাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছ। তাই মুশফিকের বিশ্বাস দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন চরিত্রের উইকেট তৈরি করতে পারলে খেলোয়াড়রাও ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিতে শিখবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেন, 'আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কাঠামো এখনো খুব বেশি উন্নত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এখানে আরও অনেক কাজ করার আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেটে কেবল ৬ মিলিমিটার ঘাস রাখলেই সেটাকে ভারসাম্যপূর্ণ উইকেট বলা যায় না। কারণ বিশ্বের সব জায়গায় ৬ মিলিমিটার ঘাস দিয়ে ক্রিকেট খেলা হয় না।'
উইকেট প্রসঙ্গে মুশফিক যোগ করেন, 'আমার মনে হয়, আমাদের যদি পাঁচটি মাঠ থাকে, তবে পাঁচটি মাঠে পাঁচ ধরনের উইকেট থাকতে হবে। যেন অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের একজন খেলোয়াড় যখন সেখানে খেলবে, সে যেন সব ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা পায়।'
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিরপুরে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্ট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য উল্টো চিত্রও দেখতে হয়েছে টাইগারদের। সবশেষ উদাহরণ, ২০২৪ সালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে সাউথ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়া। এর আগে আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কার মত দলের বিপক্ষেও ঘরের মাঠে স্পিন মোকাবেলা করতে খাবি খেয়েছে বাংলাদেশ। তাই সবধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বের সাথে দেখার পরামর্শ মুশফিকের।
এ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, 'দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে ভিন্ন ভিন্ন উইকেট তৈরির পরিকল্পনা করলে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান আরও বাড়বে এবং খেলোয়াড়রা ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিতে শিখবে। কেবল প্রথাগত পদ্ধতিতে চললে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না। কোনো মাঠে হয়তো ঘূর্ণি উইকেট থাকবে যেখানে দুই দিনেই খেলা শেষ হবে, আবার কোনো মাঠে ঘাস থাকবে পেসারদের জন্য। আবার কোনো উইকেট থাকবে পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক, যেখানে একদিনে ৪০০ রান করার সামর্থ্য তৈরি হবে।'