ওই সময় হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়েন বেঙ্গালুরুর সাবেক অধিনায়ক। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মাথা নিচু করে যেন আবেগ লুকাতে চাইলেন। সতীর্থরা সবাই দৌড়ে তাকে ঘিরে ধরলেন এবং আনন্দে মেতে উঠলেন। বাউন্ডারির বাইরে থেকে দৌড়ে এসে কোহলিকে জড়িয়ে ধরলেন এক সময়ের সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্স। স্ত্রী আনুশঙ্কা শর্মা, আরেক সতীর্থ ক্রিস গেইলও উদযাপনে শামিল হলেন।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম তখন একটা উৎসবের নগরী হয়ে উঠল। একজন কিশোর থেকে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা বনে যাওয়ার একটা শিরোপা জয়ের গল্পও দেখল। ভারতের হয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। তবে বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল জেতার স্বাদটা কেমন, অনুভূতিটা কেমন সেটার জন্য পারফেক্ট শব্দ এখনো খুঁজে বের করতে পারেননি তিনি।
বেঙ্গালুরুর পডকাস্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি এখনো বলছি শেষ ওভারের শেষ চার বলে আমার কেমন অনুভূতি হয়েছিল সেটা মানুষকে কথায় বোঝানো খুবই কঠিন।’ ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর জাতীয় দলের জার্সিতে ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিয়েছেন। গত বছর অবসর নিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেট থেকেও।
বেঙ্গালুরুর হয়ে আর কতদিন খেলবেন সেটার অবশ্য নিশ্চয়তা নেই। ভারতের ওয়ানডে দলে থাকা কোহলি হয়ত আগামী দুই-এক মৌসুম পর দুনিয়ার সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও ছাড়তে পারেন। ১৭ মৌসুম খেলার পরও আইপিএলে শিরোপা না জেতায় ক্রমশই তার উপর চাপ বাড়িয়েছে। সেই চাপ সামলে অবশেষে ট্রফি জিতেছেন। এজন্যই হয়ত কোহলির অনুভূতিটা একটু অন্যরকম। ডানহাতি ব্যাটার মনে করেন, সে যদি আগেই শিরোপা জিততো তাহলে হয়ত এখনকার ৫ শতাংশ অনুভূতিও হতো না।
কোহলি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি আমি যদি আগের বছরগুলোতে এটা (আইপিএল ট্রফি) জিততাম তাহলে হয়ত আমার এখন যে অনুভূতি সেটার ৫ শতাংশও হতো না। পুরোটাই সব ধরনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। ১৮ বছর পর এটা ঘটা, আমার ক্রিকেট জীবনে এর চেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা আর হতে পারতো না।’
২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরেই বেঙ্গালুরুতে যোগ দেন কোহলি। শিরোপা জেতার আগে ১৮ বছরে ২৬৭ ম্যাচ খেলে ৮ হাজার ৬৬১ রান করেছিলেন। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬ আইপিএল ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি বেঙ্গালুরু। কোহলি নিজেও একটা সময় ভেবেছিলেন কখনো হয়ত আইপিএলের ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হবে না।
বেঙ্গালুরুর হয়ে কখনো ট্রফি জিততে না পারলেও সেটার আক্ষেপ বয়ে নিয়ে বেড়াতেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কোহলি বলেন, ‘যদি আমি এটার জন্য আফসোস করে যেতাম না। কিন্তু আমার মনের একটা অংশ হয়ত ভাবতো, জানো ওই মুহূর্তটা অনুভব করতে কেমন লাগতো।’