মাঝারি লক্ষ্যের জবাবে খেলতে নেমে পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। তবে এই জুটি থিতু হয়নি রান আউটে। ব্যক্তিগত ৭ রানে রান আউট হয়ে ফিরে যান তানজিদ। তিনি ফেরেন মাত্র ৭ রান করে। ফলে দলীয় ২৭ রানে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয়।
তানজিদ ফিরলে বাংলাদেশের ইনিংস টেনেছেন ইমন ও লিটন। দুজনে মিলে ৬০ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। তবে ইমনকে হাফ সেঞ্চুরি করতে দেননি গ্যারেথ ডেলানি। তিনি জর্জ ডকরেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৮ বলে ৪৩ রান করে। এরপর লিটন আরও ৫২ রান যোগ করেন সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে।
এরপর দুই ব্যাটারই অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরলে বাংলাদেশের হারের শঙ্কা জাগে। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে লিটন এলবিডব্লিউ হন ৩৭ বলে ৫৭ রান করে। সাইফ ১৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন। দুজনকে যথাক্রমে ফেরান মার্ক অ্যাডায়ার ও ডেলানি। রান আউট হয়েছেন ৬ রান করা তাওহীদ হৃদয়। নুরুল হাসান সোহানও আউট হয়ে যান ৫ রান করে। চাপে পড়লেও সাইফউদ্দিন বাকি কাজটা সারেন শেখ মেহেদীকে নিয়ে। সাইফউদ্দিন শেষ পর্যন্ত ৭ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করেন পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টর। ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে থাকেন তারা দুজন। শেখ মেহেদী, নাসুম আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বিপক্ষে দ্রুত রান তোলেন তারা। পঞ্চম ওভারে তাদের ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব। ডানহাতি পেসারের বলে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে সাইফের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন১৪ বলে ২৯ রান করা স্টার্লিং। অধিনায়কের উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লেতে ৭৫ রান তোলে আয়ারল্যান্ড।
পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সফরকারীদের এটাই সর্বোচ্চ রান। পাওয়ার প্লে শেষে অবশ্য আস্তে আস্তে চাপে পড়তে থাকে তারা। নবম ওভারে টিম টেক্টরের উইকেট তুলে নেন মেহেদী। ডানহাতি অফ স্পিনারের বলে স্টাম্পিং হয়েছে ২৫ বলে ৩৮ রান করে। একই ওভারে ফিরেছেন হ্যারি টেক্টরও। একটু বেনজামিন কালিজের উইকেটও নিয়েছেন মেহেদী। ফেরার ম্যাচে ৪ ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী।
দ্রুতই কয়েকটি উইকেট হারানোর পর জর্জ ডকরেল ও লরকান টাকার মিলে জুটি গড়ে তোলেন। তাদের দুজনের ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন সাইফউদ্দিন। ডানহাতি পেসারের স্লোয়ার ডেলিভারিতে লং অনে ক্যাচ দিয়েছেন ২১ বলে ১৮ রান করা ডকরেল। শেষ পর্যন্ত টাকারের ৪১ রানের ইনিংসে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৭০ রানের পুঁজি পেয়েছে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী তিনটি এবং সাইফউদ্দিন ও তানজিম একটি করে উইকেট নিয়েছেন।