বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজ • মিরপুর
বড় লিডের আশায় বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ডের ফলোঅন এড়ানোর চ্যালেঞ্জ
মুশফিকুর রহিমের পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন লিটন দাসও। তাদের দুজনের ব্যাটেই প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রান তোলে বাংলাদেশ। বড় সংগ্রহ দাঁড় করানোর পর আয়ারল্যান্ডকে চেপে ধরেন তাইজুল ইসলাম, হাসান মুরাদ ও মেহেদী হাসান মিরাজরা। তাদের বোলিংয়ে ৫ উইকেটে ৯৮ রান তোলে সফরকারীরা। ফলোঅন এড়াতে তৃতীয় দিনের সকালে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন লরকান টাকার ও স্টিভেন দোহেনি। একশর আগেই আইরিশদের ৫ উইকেট খোয়া যাওয়ায় বড় লিডের আশা করছে বাংলাদেশ।
টাকার-দোহেনি জুটির পঞ্চাশ, আয়ারল্যান্ডের দেড়শ
৫ উইকেটে ৯৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনের সকালটা বেশ ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছেন স্টিফেন দোহেনি এবং লরকান টাকার। তাদের দুজনের ব্যাটেই গতকালের ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে আয়ারল্যান্ড। কয়েকবার বোলিং পরিবর্তন করলেও উইকেট তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৮৭ বলে জুটির পঞ্চাশ পূরণ করেছেন টাকার ও দোহেনি। আয়ারল্যান্ডও দেড়শ রানে পৌঁছে গেছে।
ভূমিকম্পের পর তাইজুলের জোড়া আঘাত
১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার ফলে প্রায় মিনিট তিনেকের মতো বন্ধ ছিল খেলা। পরবর্তীতে খেলা শুরু হলে ছন্দ হারিয়ে ফেলে আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় দিনে পাঁচ উইকেট হারালেও তৃতীয় দিনের সকালটা বেশ ভালোভাবে সামলেছেন লরকান টাকার ও স্টিফেন দোহান। তবে ভূমিকম্পের পর তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম।
বাঁহাতি স্পিনারের ঝুলিয়ে দেয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ৭৭ বলে ৪৬ রান করা দোহেনি। ডানহাতি ব্যাটারের বিদায়ে ভাঙে টাকারের সঙ্গে ১৫০ বলে ৮১ রানের জুটি। এক বল পর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের উইকেটেও তুলে নেন তাইজুল। তাকেও বোল্ড করেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। প্রথম ঘণ্টায় উইকেটশূন্য থাকলেও এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তি ফিরিয়েছেন তিনি।
প্রথম সেশনে আয়ারল্যান্ডের দাপট
ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার একটু পর তিন বলের ব্যবধানে স্টিফেন দোহেনি ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনারের ওই ওভারটা বাদ দিলে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের বাকিটা সময় দাপট দেখিয়েছে আয়ারল্যান্ড। সকালের সেশনে ২ উইকেট হারালেও ১১৩ রান যোগ করেছে সফরকারীরা। টাকার ৫৬ ও জর্ডান নেইল ২৪ রানে অপরাজিত।
আড়াই বছর পর টেস্টে ইবাদতের উইকেট
চোটের কারণে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন ইবাদত হোসেন। এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ফেরেন তিনি। পরবর্তীতে সবশেষ জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফেরেন ডানহাতি এই পেসার। ওই ম্যাচে অবশ্য ১৪ ওভার বোলিং করেও উইকেটশূন্য ছিলেন ইবাদত।
অবশেষে মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপেক্ষা ফুরিয়েছে তাঁর। ডানহাতি পেসারের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে টপ এজ হয়ে কভারে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন জর্ডান নেইল। ৮৩ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। নেইলকে ফিরিয়ে আড়াই বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটের দেখা পেলেন ইবাদত। সবশেষ ২০২৩ সালের জুনে আফগানিস্তান টেস্টে উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।
২৬৫ রানে অল আউট আয়ারল্যান্ড
৫ উইকেটে ৯৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামেন লরকান টাকার ও স্টিফেন দোহেনি। তাদের দুজনের জুটিতেই ফলোঅন এড়ানোর আশা জাগায় আয়ারল্যান্ড। প্রথম ঘণ্টায় কিছু সুযোগ দিলেও বাংলাদেশের বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামলেছেন তারা দুজন। তবে এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। পরবর্তীতে টাকার অপরাজিত ৭৫ ও জর্ডান নেইল ৪৯ রান করে আইরিশদের রান আড়াইশতে নিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ২৬৫ রানে অল আউট হয়েছে সফরকারীরা। ২১১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।
টেস্টে সাকিবের পাশে তাইজুল
তাইজুল ইসলামের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে রিভার্স সুইপ করতে চেয়েছিলেন ম্যাথু হামফ্রিস। তবে টাইমিংয়ে বড়বড় হওয়ায় খালেদ আহমেদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। হামফ্রিসকে ফিরিয়ে সাকিব আল হাসানের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন তাইজুল। ৭১ টেস্টের ২১১ ইনিংসে ২৪৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারির তালিকায় এতদিন সবার উপরে ছিলেন সাকিব।
২৪২ উইকেট নিয়ে মিরপুর টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন তাইজুল। প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সাকিবকে ছুঁয়ে ফেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ৫৭ টেস্টের ১০১ ইনিংসে ২৪৬ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। দ্বিতীয় ইনিংসে আরেকটি উইকেট পেলেই সাকিবকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি। ২০৯ উইকেট নিয়ে তালিকার তিনে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চারে ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট নেয়া মোহাম্মদ রফিক।
সাদমান-জয়ের আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভালো শুরু
২১১ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দিয়েছেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে তাদের দুজনের ব্যাটে বিনা উইকেটে ৭ ওভারে ৪১ রান তোলে বাংলাদেশ। চা বিরতি থেকে ফিরে ম্যাথু হামফ্রিসের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড অফ দিয়ে চার মেরে জুটির পঞ্চাশ পূরণ করেছেন সাদমান।
জয়-সাদমানের হাফ সেঞ্চুরি, তিনশ ছাড়িয়ে বাংলাদেশের লিড
শুরুতে আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করলেও পরবর্তীতে একটু দেখেশুনে খেলতে থাকেন জয় ও সাদমান। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন জয়। পরের ওভারে গ্যাভিন হোয়ের বলে ডাবল নিয়ে সাদমান পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭৬ বলে। তাদের দুজনের হাফ সেঞ্চুরিতে একশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। তাতে স্বাগতিকদের লিড ছাড়িয়ে গেছে তিনশ।
ওপেনিং জুটি ভাঙল বাংলাদেশের
বাংলাদেশের ১১৯ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন গ্যাভিন হই। ৯১ বলে ৬০ রান করা মাহমুদুল হাসান জয়কে তিনি এলবিডব্লিউ বানিয়ে ফিরিয়েছেন। এরপর রিভিউ নেননি জয়। সোজা ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন। এরপর সাদমান ইসলামের সঙ্গে যোগ দেন মুমিনুল হক।
রঙিন দিন শেষে মিরপুরে এগিয়ে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে পথ হারালেও তৃতীয় দিনের সকালে আয়ারল্যান্ডের হয়ে শুরুটা ভালো করেছিলেন লরকান টাকার ও স্টিফেন দোহেনি। জুটি ভাঙার সঙ্গে সফরকারীদের আটকে দেয়ার কাজটা করেছেন তাইজুল ইসলাম। ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ২৬৫ রানে থামানোর কাজটা করেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। সঙ্গী ছিলেন হাসান মুরাদ, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদরা। সুযোগ থাকলেও আইরিশদের ফলোঅন করায়নি বাংলাদেশ। ২১১ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের হাফ সেঞ্চুরিতে ১ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ৩৬৭ রানের লিড নিয়ে মিরপুরে টেস্ট চালকের আসনে এখন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচ
- সিরিজ
- বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজ
- ভেন্যু
- মিরপুর
-
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি -
ক্রিকফ্রেঞ্জি