৩৬ বছরেই থেমে গেল জিম্বাবুয়ের আম্পায়ার সারার পথচলা

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
সারা দাম্বানেভানা, ফাইল ফটো
সারা দাম্বানেভানা, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে শোকের ছায়া। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন দেশটির সাবেক নারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার সারা দাম্বানেভানা। সোমবার হারারেতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু করলেও আম্পায়ার হিসেবে নিজের দক্ষতায় অল্প সময়েই পরিচিতি পেয়েছিলেন সারা।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেন সারা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই পেসার। এ সময়ে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও অংশ নেন তিনি। পরে ক্রিকেটার থেকে আম্পায়ার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সারা।

আম্পায়ারিংয়ে আসার পর দ্রুতই এগিয়ে যান তিনি। ২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের উন্নয়ন প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন সারা। ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হয় তার। এরপর নারী ক্রিকেটের একাধিক বড় আসরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান তিনি।

সারার ক্যারিয়ারে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। সাউথ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ওই আসরে ভারত ও ইংল্যান্ডের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জিম্বাবুইয়ান নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন সারা। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত বছর নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আম্পায়ারিং করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোট ৬৩টি ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল সারার। এর মধ্যে ৪২টি নারী টি-টোয়েন্টি ও ১১টি নারী ওয়ানডে ম্যাচের পাশাপাশি ছেলেদের ১০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও বয়সভিত্তিক বৈশ্বিক আসরেও আম্পায়ার হিসেবে কাজ করেছেন সারা।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তাভেংওয়া মুকুলানি। তিনি বলেন, 'প্রথমে ক্রিকেটার হিসেবে এবং পরে আম্পায়ার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সেবা করেছে সারা। তার যোগ্যতা তাকে বিশ্ব মঞ্চে স্থান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে আম্পায়ারিং করতে দেখা আমাদের ক্রিকেট সম্প্রদায় এবং আমাদের দেশের জন্য ছিল এক পরম গর্বের মুহূর্ত।'

সারার অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী ক্রিকেটারদের পথ দেখাবে বলে মনে করেন মুকুলানি। তার ভাষায়, 'জিম্বাবুয়ের তরুণীদের সে দেখিয়েছে যে, খেলার সর্বোচ্চ স্তরে তাদেরও স্থান রয়েছে, এমনকি এমন সব ভূমিকাতেও যেখানে সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ছিল। তার সাফল্যের মাধ্যমে সে অন্যদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তার মৃত্যু আমাদের ক্রিকেট পরিবারে এক বেদনাদায়ক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে যারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তাদের অনুপ্রাণিত করতে থাকবে।'