বিশ্বকাপে ভারতের টপ অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের কেউ নিয়মিত বোলিং করেন না। ফলে একাদশে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প তৈরি করতে হলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রয়োজন হবে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং করার সামর্থ্যের কারণেই হার্দিক ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গাঙ্গুলি।
জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাঙ্গুলি বলেন, 'বিশ্বকাপে ভারতের ভারসাম্যের জন্য হার্দিক পান্ডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাকে মাঠে ফিট অবস্থায় পাওয়াই গম্ভীর ও দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। আমার মনে হয় না সে যথেষ্ট ক্রিকেট খেলে। কিন্তু ভারতের জন্য দলের ভারসাম্য ঠিক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
হার্দিককে না পাওয়া গেলে নীতীশ রেড্ডিকে পরের সেরা বিকল্প হিসেবে দেখছেন গাঙ্গুলি। তবে শুধু ব্যাকআপ হিসেবে দলে রাখলেই হবে না, বিশ্বকাপের আগে নীতীশকে নিয়মিত ক্রিকেট খেলানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তার মতে, হার্দিকের জায়গায় নীতীশকে বিবেচনা করতে হলে বড় টুর্নামেন্টের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে।
গাঙ্গুলি বলেন, 'হার্দিক চোটে থাকলে পরের সেরা বিকল্প নীতীশ রেড্ডি। তবে তাকে যদি হার্দিকের দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ভাবতে হয়, তাহলে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে সব ধরনের ক্রিকেট খেলতে হবে। '
রবীন্দ্র জাদেজাকেও আরেকটি বিকল্প হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে সাত নম্বরে জাদেজার ব্যাটিং সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে একজন সিমিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীয়তার দিকটিই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় অক্টোবরের কন্ডিশনও হার্দিকের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন গাঙ্গুলি। তার ভাষায়, 'অক্টোবরের দক্ষিণ আফ্রিকায় আপনার একজন সিমিং অলরাউন্ডার প্রয়োজন হবে। কারণ ভারতের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের কেউ বোলিং করে না। তাই পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প কোথা থেকে আসবে, সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এ কারণেই আমি বারবার বলছি, হার্দিক খুব গুরুত্বপূর্ণ।'
বিশ্বকাপের সূচি নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন গাঙ্গুলি। ভারত ৭ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। এরপর ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে তারা। তবে সূচির চেয়ে গাঙ্গুলির কাছে বড় বিষয় ভারতের দলীয় ভারসাম্য বিশেষ করে হার্দিককে পাওয়া যাবে কি না এবং তার অনুপস্থিতিতে নীতীশ বা অন্য কেউ সেই ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারবেন সেটি।