বেয়ার্ড বর্তমানে সিএ বোর্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসের মনোনীত প্রতিনিধি ছিলেন। তবে বিগ ব্যাশে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যটি তাকে আর সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাধীন সদস্য হিসেবেও তাকে সমর্থন করবে না নিউ সাউথ ওয়েলস। অন্য রাজ্যগুলো অবশ্য তাকে স্বাধীন সদস্য হিসেবে চেয়ারম্যানের পদে থাকার সুযোগ দিতে চেয়েছিল। তবে সর্বসম্মত সমর্থন ছাড়া দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চাননি বেয়ার্ড।
বিবিএলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রক্রিয়ায় বেয়ার্ড ও সিএর প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে সিএ বোর্ড এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে এবং এর আওতায় মেলবোর্ন রেনেগেডসই প্রথম ক্লাব হিসেবে বিক্রি হওয়ার কথা, সম্ভাব্যভাবে বছরের শেষের আগেই। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান বিরোধী। তাদের অবস্থান, ক্রিকেটের আয় বাড়াতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবর্তে অন্য পথও খোঁজা যেতে পারে।
পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বেয়ার্ড বলেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে আমি সিএর চেয়ারম্যান ও পরিচালক দুই দায়িত্ব থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডেভিড বুন অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে রাজি হওয়ায় আমি আনন্দিত। আগামী কয়েক সপ্তাহে তার সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব।’ বেয়ার্ড আরও জানান, নিউ সাউথ ওয়েলসের বোর্ড ও গত ছয় বছর সিএ বোর্ডে ক্রিকেটের দেখভালে ভূমিকা রাখতে পেরে তিনি গর্বিত।
বেয়ার্ডের বিদায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দায়িত্বও ছাড়তে হবে তাকে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন তিনি। এদিকে বুন ২০২৫ সালে সিএ বোর্ডে যোগ দেন। এর আগে আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক প্যানেলের সদস্য ছিলেন। ১০৭ টেস্ট খেলা বুন এখন স্থায়ী চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সিএর অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দায়িত্ব নিয়ে বুন বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং সময়ে সিএর অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের স্বার্থ এগিয়ে নিতে বোর্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার অপেক্ষায় আছি।’ বেয়ার্ডের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের তৃণমূল থেকে সিএ ও আইসিসির বোর্ডরুম পর্যন্ত তার অবদান এবং কঠিন সিদ্ধান্ত মোকাবিলার ভূমিকা ক্রিকেটাঙ্গনের সবারই মূল্যায়ন করা উচিত।