এই সিরিজে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে প্রসিধ কৃষ্ণা, গুরনুর ব্রার ও নীতিশ কুমার রেড্ডিদের মতো খেলোয়াড়দের দিকেও নজর থাকবে। বিশ্বকাপের দল গঠনের আগে বিভিন্ন ভূমিকায় খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখতে চায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর নিউজিল্যান্ড সিরিজেও এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের বোলিং কোচ মরনে মরকেল জানিয়েছেন, গত এক বছর ধরেই বিকল্প বোলারদের বিভিন্ন ভূমিকায় খেলিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও একই পরিকল্পনা থাকবে। দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া বক্তব্যে মরকেল বলেন, 'গত এক বছর ধরে আমরা ছেলেদের ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং বিভিন্ন ভূমিকায় তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটি দেখেছি। এখন এই সিরিজ এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজেও একই কাজ চলবে।'
প্রসিদ্ধ ও গুরনুরের মতো বোলারদের জন্য ম্যাচ খেলার সুযোগকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন মরকেল। শুধু একাদশে জায়গা পাওয়াই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে নিজেদের কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন, সেটিও দেখতে চান তিনি। ভারতের বোলিং কোচ বলেন, 'বল হাতে তাদের সুযোগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা যে মান চাই, সেটার সঙ্গে তাদের পরিচিত হতে হবে। এই সিরিজে বিভিন্ন ভূমিকায় তারা কী করতে পারে, সেটি দেখার সুযোগ অবশ্যই দেওয়া হবে।'
চাপের মুহূর্তে বোলারদের মানসিক দৃঢ়তাও পরীক্ষা করতে চান মরকেল। কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে বরং বল চেয়ে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করাই তাঁর লক্ষ্য। মরকেল বলেন, 'কঠিন পরিস্থিতি বা কোনো জুটি যখন গড়ে উঠছে, তখন আমরা বোলারদের চ্যালেঞ্জ করেছি। আমি দেখতে চাই, তারা নিজেরাই বল চাইছে এবং সুযোগ তৈরি করতে চাইছে কি না। শুধু নিজের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা করলে হবে না।'
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন পরিস্থিতিই কাজে দেবে বলে মনে করেন মরকেল। ম্যাচের প্রতিকূল পরিস্থিতিকে এখন থেকেই অনুশীলনের অংশ বানাতে চান তিনি। মরকেল বলেন, 'আমরা যদি এমন মানসিকতা তৈরি করতে পারি যে ছেলেরা কঠিন পরিস্থিতি চাইবে, সেটি দারুণ হবে। ধরুন, আমরা ৩০ রানে চার উইকেট হারালাম—তখন কে জুটি গড়ে দলকে ১০০ রানে নিয়ে যাবে? এখন থেকেই নিজেদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারলে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে পারলে ভবিষ্যতে সেটি আমাদের অনেক সাহায্য করবে।'
তবে ভারতের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে থাকা খেলোয়াড়েরাই নন, চোটের কারণে বাইরে থাকা ক্রিকেটারদেরও হিসাবের মধ্যে রাখা হচ্ছে। হার্ষিত রানা ও অন্যদের ফেরানোর জন্য মেডিকেল দলের সঙ্গে কাজ করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। একই সঙ্গে নীতিশ কুমার রেড্ডির মতো অলরাউন্ডারদেরও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দিতে চায় ভারত। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরও বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার গুরুত্বের কথা বলেছেন।