টেস্ট দলের সাথেও পিটারসেনকে চান ফ্লেমিং

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
স্টিফেন ফ্লেমিং ও কেভিন পিটারসেন, ফাইল ছবি
স্টিফেন ফ্লেমিং ও কেভিন পিটারসেন, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইংল্যান্ডের নতুন সাদা বলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পর এবার টেস্ট দলেও কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন কেভিন পিটারসেন। ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথাও হয়েছে। তবে ব্যস্ত সূচির কারণে নিয়মিতভাবে দলের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটার।

গত মাসে পিটারসেনকে ফোন করে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলে স্বল্পমেয়াদি পরামর্শক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলে আসা-যাওয়ার ভিত্তিতে কাজ করবেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান সিরিজেও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করছেন পিটারসেন।

টেস্ট দল নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে পিটারসেন বলেন, ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। ডিসেম্বরের সাউথ আফ্রিকা সফর এবং আগামী বছরের অ্যাশেজের আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। পিটারসেন বলেন, 'ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে আমাকে সবসময় ড্রেসিংরুমে থাকতে হবে। সফরের আগে অনেক সময় থাকে, আর সেই সময়টায় ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করা ও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা সম্ভব। তবে আমি এর চেয়ে বেশি সময় দিতে পারব কি না, সেটা কঠিন।'

পিটারসেনের নজরে আছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও। তার মতে, ব্রুকের প্রতিভা অসাধারণ এবং পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিংয়ের কৌশল নিয়ে তাকে সাহায্য করতে চান। তিনি বলেন, 'সে কতটা ভালো, তা আসলে অবিশ্বাস্য। তার সম্ভাবনাও ভয়ংকর। পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে ব্যাট করতে হয়, সে বিষয়ে আমি তাকে সাহায্য করতে পারি। নিজের খেলার সময় ব্যাটিংয়ের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে অনেক নোট রেখেছিলাম, সেগুলোও কাজে লাগাতে চাই।'

ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে অবশ্য পিটারসেন নিজেই কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। ম্যাককালাম যখন প্রথম ফোন করেছিলেন, তখন তার মনে হয়েছিল কোনো ঝামেলায় পড়েছেন। কারণ ইংল্যান্ডের বর্তমান দলের পরিবেশ সম্পর্কে তার আগের ধারণা ছিল ভিন্ন। সাবেক এই ইংলিশ ব্যাটার বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম আমি হয়তো সমস্যায় পড়েছি। কয়েক সপ্তাহ ম্যাককালামের সঙ্গে কথা বলার পর বুঝলাম, বাইরে থেকে যে ধারণা ছিল, ড্রেসিংরুমের বাস্তবতা তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।'

নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিতর্কিত সমাপ্তি নিয়েও এখন আর কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন পিটারসেন। ২০১৩-১৪ অ্যাশেজের পর ইংল্যান্ডের হয়ে আর খেলেননি তিনি। তবে ৪৬ বছর বয়সে এসে সেই অধ্যায়কে পুরোপুরি পেছনে ফেলেছেন বলে জানান। এখন তার মূল লক্ষ্য ম্যাককালাম ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সাহায্য করা।

আগামী বছর সাউথ আফ্রিকায় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে থাকবেন পিটারসেন। তবে বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বদলে দলের উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। পিটারসেন বলেন, 'আমাদের ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অনেক কাজ করতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা সফল, কিন্তু ওয়ানডেতে একই সাফল্য নেই। তাই আগামী ১২ মাসে প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের আরও ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।'

আরো পড়ুন: