টস জিতে আগে বোলিং নেয়ার সিদ্ধান্তের পুরোপুরি সুফল পায় ভারত। প্রায় দুই মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা জসপ্রিত বুমরাহ দ্বিতীয় বলেই রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দেন। এরপর ইব্রাহিম জাদরান রান আউট হলে এবং সেদিকউল্লাহ অটলকে আর্শদীপ সিং ফেরালে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
সাত ওভারের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানে পাঁচ উইকেটে পরিণত হয় আফগানদের ইনিংস। গুলবাদিন নাইবকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল, আর দারউইশ রাসুলিকে বিদায় করেন বরুণ চক্রবর্তী। এক পর্যায়ে বড় সংগ্রহের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেলেও আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবি দলকে টেনে নেন।
ষষ্ঠ উইকেটে ৮৩ রানের জুটি গড়েন ওমারজাই ও নবি। ২৭ বলে ৩৩ রান করা নবিকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আর্শদীপ। পরের ওভারে রশিদ খানকে ১ রানে ফেরান তিনি, এরপর নুর আহমেদ রান আউট হলে আবারও চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
শেষ দিকে অবশ্য ঝড় তোলেন ওমরজাই। ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার শেষ ওভারে শিবম দুবেকে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে নেন ২১ রান। চারটি করে চার ও ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে ২০ ওভারে ১৫৬ রানের সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। ভারতের হয়ে আর্শদিপ ১৯ রানে তিন উইকেট নেন, আর বরুণ ১৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ভারত। তৃতীয় ওভারে সাঞ্জু স্যামসন ফিরলেও অভিষেকের ঝড় থামাতে পারেনি আফগান বোলাররা। পাওয়ার প্লে'তে ভারত তোলে এক উইকেটে ৮২ রান, যেখানে অভিষেকের একার অবদান ছিল ১৫ বলে ৪১। ফজলহক ফারুকিকে দুই ওভারে ৩৮ রান দেন তিনি।
মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন অভিষেক। এরপর রশিদ খান ও নুর আহমেদের ওভারে একের পর এক চার-ছক্কায় আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণকে এলোমেলো করে দেন। একাদশ ওভারে মোহাম্মদ নবীর বলে ছক্কার পর আরেকটি ছক্কা মারতে গিয়ে থামেন তিনি। তার ৩২ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও সাতটি ছক্কা।
অভিষেকের বিদায়ের সময় ভারতের রান ১২১। দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিশানের সঙ্গে মাত্র ৫৩ বলে ১২১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে তুলে দেন তিনি। নবির বলে ৩৩ বলে ৪২ রান করে কিশান ফিরলেও পরের ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।