ছেলের আবদারেই ৪৭ বছর বয়সেও ছুটে চলছেন তাহির

সিপিএল
ইমরান তাহির, ফাইল ছবি
ইমরান তাহির, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
৪৭ বছর বয়সেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছেন ইমরান তাহির। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক। ৪৭ বছর ১৬৬ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে। আগের রেকর্ডটিও ছিল তারই।

তাহিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেন্ট লুসিয়া কিংস ১৮.৫ ওভারে ১১৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে শুরুতে চাপে পড়লেও কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় গায়ানা। চার উইকেটের এই জয়ে এক ম্যাচ পরই জয়ে ফিরেছে ওয়ারিয়র্স এবং ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে।

তাহিরের ১৭ রানে ৫ উইকেটের স্পেল শুধু বয়সের রেকর্ডই নয়, তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংও। এর আগে ২০২৫ সালের সিপিএলে অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের বিপক্ষে ৪৬ বছর ১৪৮ দিন বয়সে ৫/২১ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবার নিজের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন। তার আগে কুক আইল্যান্ডসের তোমাকুনুতে রিতাওয়ার দখলে ছিল রেকর্ডটি; ২০২২ সালে ফিজির বিপক্ষে ৪৬ বছর ২৯৯ দিন বয়সে ১৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

তাহিরের ঘূর্ণিতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মাঝের ওভারে। কাইমিল পুরানকে ৪৩ রানে এলবিডব্লিউ করে ফেরানোর পর রস্টন চেজকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে ম্যাথিউ ফোর্ডকে বোল্ডসহ আরও তিনটি উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন নিজের ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি পাঁচ উইকেটের কীর্তি। তার সঙ্গে সিপিএলে অভিষেক হওয়া বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজও কম যাননি। চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে কিংসের ব্যাটিং ধস নামাতে বড় ভূমিকা রাখেন মিরাজ।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সঙ্গে কথা বলে নিজের বোলিং পরিকল্পনার কথা জানান তাহির। তাহির বলেন, 'আমার লাইন ও লেংথ খুব ভালো ছিল। বল ঠিক জায়গায় পড়েছে এবং অনেকটা ঘুরেছে। প্রভিডেন্সে এমনটা পাওয়া যায়। আগের দুই ম্যাচে এমন টার্ন পাচ্ছিলাম না। তবে আমি মনে করি, ভালো লেংথে বল করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখাই আমার কাজ। আমি আক্রমণাত্মক বোলার, উইকেট পেলে আমার কোনো আপত্তি নেই।'

৪৭ বছর বয়সেও খেলে যাওয়ার পেছনে তাহিরের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার ছেলে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, ছেলেই তাঁকে আরও খেলে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন। তাহির বলেন, 'আমার ছেলেই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দেয়। সে আমাকে বলে, ‘বাবা, আর এক বছর, আর এক বছর; এরপর তোমাকে আমার সঙ্গে খেলতে হবে।’ এটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। আমি ওকে এবং বিশ্বজুড়ে আমাকে দেখে যারা অনুপ্রাণিত হয়, সেই তরুণদের জন্যও কিছু করে যেতে চাই।'

২০০৬ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু করা তাহির এখন ৪৬১ ম্যাচে ৫৮৯ উইকেট নিয়ে ৬০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র ১১ উইকেট দূরে। তাঁর সামনে আছেন রশিদ খান, সুনীল নারাইন ও ডোয়াইন ব্রাভো। অর্থাৎ আর ১১ উইকেট পেলেই টি-টোয়েন্টিতে ৬০০ উইকেট নেওয়া মাত্র চতুর্থ বোলার হবেন তিনি।

আরো পড়ুন: