ভারতের মাটিতে এবং শ্রীলঙ্কায় বিশেষ পরিস্থিতিতে আগে ওপেন করেছেন হেড। সাদা বলের ক্রিকেটেও অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত ওপেনার তিনি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব বেশি ম্যাচে ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করেননি। গত বছরের নভেম্বরে পার্থে উসমান খাজার চোটের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে নামার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাত্র ৮৩ বলে ১২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন হেড। তাঁর সেই ব্যাটিংয়ে মাত্র দুই দিনে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর অ্যাডিলেড ও সিডনিতেও সেঞ্চুরি করেন তিনি। পুরো অ্যাশেজে ৬২৯ রান করে সিরিজের অন্যতম বড় নায়ক হয়ে ওঠেন হেড। সিরিজসেরার পুরস্কার মিচেল স্টার্ক পেলেও হেডের এই পারফরম্যান্স তাঁকে টানা দ্বিতীয়বার অ্যালান বর্ডার মেডেল জেতাতে বড় ভূমিকা রাখে।
পার্থ টেস্টের পরই প্রশ্ন উঠেছিল, হেড কি নিয়মিত ওপেন করবেন? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই পরিষ্কার। আগামী প্রায় এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২০টি টেস্ট, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে সংখ্যা হবে ২১। সেই দীর্ঘ সূচিতেও ওপেনিংয়ে হেডকেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তবে নিজেকে ঐতিহ্যগত ওপেনার হিসেবে মানতে নারাজ হেড। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সাধারণত যারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ওপেনিংয়ে ব্যাট করে আসেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপেন করেন এবং পরে টেস্টেও একই ভূমিকায় খেলেন, প্রকৃত ওপেনার বলতে তাদেরই বোঝায়।
হেড বলেন, ‘আমি ঠিক পরিসংখ্যান জানি না, তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমি ১৭০ বা ১৮০টি ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে হয়তো ১০ বা ১২টিতে ওপেন করেছি। আমার মনে হয়, এতে বোঝা যায় যে আমি প্রকৃত অর্থে ওপেনার নই। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে যেভাবে ওপেনার তৈরি হয়, আমি সেভাবে আসিনি।’
তবে ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করার জন্য নিজের ব্যাটিং উপযোগী বলেই মনে করেন হেড। নতুন বলের বিপক্ষে তাঁকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, সেটিও জানেন তিনি।
হেড বলেন, ‘আমার ব্যাটিংয়ের ধরন ইনিংসের শুরুতে ভালো করার জন্য উপযোগী। আমি মনে করি, ওপরের দিকে থেকে একটা ভূমিকা পালন করতে পারি। আমি এখন ওপরেই ব্যাট করছি, কিন্তু সেই অর্থে প্রকৃত ওপেনার নই। নতুন বলের বিপক্ষে আমাকে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে। ভুলও হবে, সেটি স্বাভাবিক। নিজের খেলা নিয়ে আমি খুব স্বস্তিতে আছি।’
অ্যালান বর্ডার মেডেল জেতার পর অ্যাশেজের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন হেড। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের জয়ে নিজের অবদানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন উইকেটে ফিফটি করে ম্যাচ জেতানোও তাঁর কাছে বড় সাফল্য।
‘আমি সেঞ্চুরি করতে চাই, সব সময় রান করতে চাই। কিন্তু দিনের শেষে আমি টেস্ট ম্যাচ জেতাতে অবদান রাখতে চাই। বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজ টেস্টের কথা ভাবুন। সেখানে কঠিন উইকেটে আমি দুটি ফিফটি করেছিলাম এবং আমরা ম্যাচ জিতেছিলাম। স্কোরকার্ডে হয়তো সেটি সেঞ্চুরির মতো দেখায় না, কিন্তু আমি মনে করি, টেস্ট জয়ে আমার বড় অবদান ছিল।’
অ্যাশেজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে পেরে অবশ্য নিজের ওপর সন্তুষ্ট হেড। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের মান যাচাইয়ের অন্যতম বড় মাপকাঠি যে অ্যাশেজ, সেটিও জানেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে হেড বলেন, ‘অ্যাশেজে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে পেরে আমি খুবই খুশি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে পুরো ক্যারিয়ারে সবাই নিজেদের অ্যাশেজ পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করে। তাই এমন পারফরম্যান্স করতে পারব, তা আমি কল্পনাও করিনি। আবার একই সঙ্গে নিজের কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশাও করি। সব মিলিয়ে কঠিন জায়গা, তবে অ্যাশেজ জিততে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
সামনে অবশ্য আরও কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ, ভারতে পাঁচ ম্যাচের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ১৫০তম টেস্ট। এরপর রয়েছে অ্যাশেজও।
এত ভিন্ন কন্ডিশনে খেলতে গিয়ে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরনও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে চান হেড। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করে না রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ভূমিকা পালন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
হেড বলেন, ‘আমি সব সময় দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলতে প্রস্তুত। আগামী ১০ মাসে আমাদের সামনে ২১টি পর্যন্ত টেস্ট আছে। আমি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকায় আটকে রাখতে চাই না বা নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সের প্রত্যাশাও করি না। ইনিংসের শুরুতে ম্যাচের গতিপথ ঠিক করা হোক, বড় সেঞ্চুরি করা হোক সিরিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আমি ভূমিকা পালন করতে চাই।’
ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে আগামী এক বছরে অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হবে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন হেড। তাই প্রতিটি ম্যাচে একই ধরনের ব্যাটিং সম্ভব নয়। তবে তাঁর কাছে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য একটাই দলের জয়।
হেড বলেন, ‘আগামী ১২ মাসে আমরা অনেক ভিন্ন কন্ডিশনে খেলব। সেখানে ভিন্ন ধরনের পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হবে। সব সময় হয়তো প্রচলিতভাবে খেলতে হবে না। আমি শুধু এমন একটি ভূমিকা পালন করতে চাই, যেটি শেষ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ জিততে সাহায্য করবে। প্রতিদিন সবকিছু কাজ করবে না, আমিও প্রতিদিন পারফর্ম করতে পারব না। তবে যখন পারব, তখন যেন সেটি দলের জয় এনে দেয় এটাই আমার লক্ষ্য।’