ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের আগে গিল জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ৫০ ওভারের ক্রিকেট দেখে বড় হয়েছেন। তার কাছে ওয়ানডে বিশ্বকাপই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপ।
গিল বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে অনেক ৫০ ওভারের ক্রিকেট দেখেছি, এটি আমার শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বকাপের কথা ভাবলেই সবার আগে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের কথাই মনে আসে। আমার কাছে এটিই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপ। তাই এটিকে ৪০ ওভারে নামিয়ে আনার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
ওয়ানডে ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে ভিন্ন পথের পরামর্শও দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক। আগের মতো বহুদেশীয় টুর্নামেন্টগুলো আবার ফিরিয়ে আনাটা দারুণ কার্যকরী হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আগে অনেক ত্রিদেশীয় সিরিজ হতো, যেগুলো দেখতে দারুণ লাগত। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা নিয়মিত এমন টুর্নামেন্ট খেলত। যদি কখনো ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সুযোগ পাই, তাহলে সেটি দারুণ হবে। কারণ তখন একই দলের বিপক্ষে বারবার খেলতে হয় না। ওয়ানডে ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করতে চাইলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বদলে ত্রিদেশীয় বা চারজাতি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে। এতে খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের জন্যই বিষয়টি আরও উপভোগ্য হবে।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের প্রভাব ওয়ানডে দলে পড়বে না বলেও মনে করেন গিল।
ভারতের অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি না এর কোনো প্রভাব এই দলে পড়বে। এটি ভিন্ন সংস্করণ, ভিন্ন দল এবং লক্ষ্যও আলাদা। আমরা মাত্রই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছি। এখন ওয়ানডে সিরিজে আমাদের লক্ষ্য ভিন্ন। সেই দিক থেকে দলের পরিবেশও আলাদা।’
নিতীশ কুমার রেড্ডি ও হার্শিত রানার চোট ভারতের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনলেও ওয়ানডে দল নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ভারতীয় অধিনায়ক । ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে তরুণ ক্রিকেটারদের চাপের ম্যাচে খেলানোর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে গিল বলেন, ‘আমি মনে করি না কোনো উদ্বেগের জায়গা আছে। আমাদের একাদশও অগোছালো নয়। তবে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ ও অভিজ্ঞতা দিতে হবে। তারা যত বেশি চাপের পরিস্থিতিতে খেলবে এবং ভালো করবে, বিশ্বকাপের আগে সেটি আমাদের জন্য ততই ইতিবাচক হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। সিরিজ শুরুর আগেই রেড্ডি চোট পেয়েছে, হার্শিতও ইনজুরিতে। বিশ্বকাপের আগে তাদের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলাতে চেয়েছিলাম, যাতে সুযোগ এলে তারা আত্মবিশ্বাসী থাকে। কিন্তু চোটের কারণে আমাদের ভিন্ন সমন্বয়ে খেলতে হচ্ছে।’
২০২৭ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিরাট কোহলির সঙ্গে দলগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানান গিল।
তিনি বলেন, ‘আলোচনাটা ছিল দলীয় কম্বিনেশন নিয়ে। কোন সমন্বয় আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হতে পারে, এখন দলে না থাকা কোন খেলোয়াড় ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে, কোন পেসার, অলরাউন্ডার কিংবা স্পিনারকে বিবেচনায় রাখা উচিত এসব নিয়েই কথা হয়েছে।’
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। পাশাপাশি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো এই সংস্করণে ফিরতে যাওয়া জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়েও আশাবাদী তিনি।
গিল বলেন, ‘গত এক দশক ধরে বিরাট ভাই ও রোহিত ভাই ভারতের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা। তারা এখনও দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে তারা যা করেছে, তা আমরা সবাই দেখেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বুমরাহ কিছুদিন পর আবার ওয়ানডে দলে ফিরছে। আশা করি, এই সিরিজের আগে সে পর্যাপ্ত বোলিং করেছে এবং এই সিরিজ তার জন্য ভালোই যাবে।’